সোনালী ঘোষ


সোনালী ঘোষ
মনখারাপের সঙ্গে কবিতার রসায়ন

"মাথার ভিতরে
স্বপ্ন নয়, কোন্ এক বোধ কাজ করে;
স্বপ্ন নয়—শান্তি নয়—ভালোবাসা নয়,
হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়;
আমি তারে পারি না এড়াতে,"
ভেতরে ঘুরপাক খায় কাটা অতৃপ্তি, গলার কাছে জমাট-জমাট বাষ্প, তখন খুব ইচ্ছে হয় উড়ে যাই,  গুঁড়ো-গুঁড়ো রোদ মাখি বা আকাশ থেকে সোঁ করে বৃষ্টির সাথে ঝাঁপিয়ে পড়ি নদীর বুকে তারপর সাঁতরে সাঁতরে কোনো এক ময়নাদ্বীপে...এসব রূপকথা সকাল-সন্ধে পাতে বেড়ে নিই, উড়ান ভরি, কিন্তু সে-উড়ান গোঁত খাওয়া ঘুড়ির মতো এসে পড়ে ভাঙা পাঁচিলে। তীব্র যন্ত্রণা হয় অপাঙ্গে। কলম তুলে নিই, মনের ভেতরে জমতে থাকা অনুভূতি ভরে দিই কালির ভেতর। আর হঠাৎই সব এলোমেলো হয়ে যায়। একটা প্রবল ঢেউ আছড়ে পড়ে খাতার পাতায়। নিমেষে ভরে যায় অক্ষর। কিছু বোঝার আগে তুলোর চেয়েও নরম হয়ে ওঠে মন। অকালবর্ষা হয়, চারদিক ময়ূরের ডানার মতো ঝিলমিলিয়ে ওঠে, বারবার অক্ষর ছুঁয়ে থাকি, দেখি লেখাগুলো।  

বরাবর কবিতা পড়তে বড়ো ভালোবাসি, বিশেষত মন যখন খুব খারাপ থাকে। আর তখনই দেখি, আমার অনুভূতিগুলো গণকঠাকুর লিখে গিয়েছেন; উপায়ও বাতলেছেন।আর সুনীল গঙ্গোপাধ‍্যায়ের শাশ্বত ঠোঁটে শুনেছি অমোঘ বাণী : "শুধু কবিতার জন্য এই জন্ম, শুধু কবিতার জন্য কিছু খেলা"; জাদুকাঠি দিয়ে কে যেন সব বদলে দেয়! ভাবতে শিখি, নতুনভাবে চিনতে শিখি। পুরোনো চিন্তার খোলস অজান্তে খসে যায়। বারান্দায় পড়ন্ত বিকেলের রোদ দেখলে মনখারাপ করে না, বরং মনে হয় ডাকপিয়োনের খবর এল বুঝি, জুঁইফুলের গন্ধে জ‍্যোৎস্না সাজবে জলসাঘরে তারাদের ঝিকিমিকি, জোনাকিদের আলোয় সাজবে গাছেদের পাতা। এত আয়োজন, এত আড়ম্বর কেন আগে দেখিনি বলে আফশোষ হয় খুব। শুধু মনখারাপের সাথে কবিতার রসায়ন এত জোরালো বলেই বুঝি : "শুধু কবিতার জন্য, আরো দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে লোভ হয়।"

Comments