Posts

Showing posts from July, 2020

মুক্তধারা | জুলাই ২০২০

Image
প্রসঙ্গত
করোনা-বিপর্যয় তথা লকডাউনের এই ধারাবাহিক আবহে আমাদের ১৯ বছরের পত্রিকা ভাষা ৩৩ তম সংখ্যাটি নিয়ে প্রথমবার অনলাইন সংখ্যা হয়ে এসেছিল গত জুন মাসে। ঠিক একমাসের মধ্যেই যে আবার আরেকটি অনলাইন সংখ্যা নিয়ে আসতে হলো, তার কারণ শুধু এই নয় যে, মুক্তধারা নতুন সংখ্যার সময়ও হয়ে গিয়েছে। তার কারণ আরও বেশি করে এই যে, অবরুদ্ধ জীবনকালের এই পর্বে অনিশ্চিত আগামীর মুুুখোমুখি দাঁড়ানোর জন্য ভালোবাসার জিনিসগুলোই আমাদের সামান্য রসদ হতে পারে।
মুক্তধারা নবীন পত্রিকা হলেও, দেখতে-দেখতে তার তিন বছর পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে এই শ্রাবণে। তবে ভাষা-র দীর্ঘ অভিজ্ঞতা মুক্তধারা-র জন্য সবসময়েই পাথেয় হয়ে থেকেছে। ঠিক যেমন, এবার ভাষা-র অনলাইন সংখ্যা করে পাঠকের কাছে প্রচুর সদর্থক অভিমত পেয়েই মুক্তধারা-কেও অনলাইন করে তোলা গেল। ২০১৭-র বাইশে শ্রাবণ, রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণদিবসে বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় মুক্তধারা-র প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছিল কলিকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণাকেন্দ্রে অল্প কয়েকজনের উপস্থিতিতে, একটি ঘরোয়া আড্ডায়; লাইব্রেরির প্রাণপুরুষ সন্দীপ দত্তের হাত দিয়ে। আজ যখন এই সংখ্যার সম্পাদকীয় লিখছি, তখন এই শ্রাবণের দুপুরেও তে…

এবাদুল হক

Image
এবাদুল হক অনুভবের আগুন 
দিনশেষে যদি দ্যাখো স্বপ্নের ভেতর রক্তপাত  চিলেকোঠায় সূর্য অস্ত গেল অথচ রাত্রির মুখ ঢাকা  তাহলে নিশ্চিত জেনো তোমাকে খুঁজছে কেউ  অথবা প্রতীক্ষারত তুমি, বসে আছো স্মৃতির জঙ্গলে  ক্রমশ তোমার মধ্যে জন্ম নিচ্ছে, ফিরে আসছে অনুভবে  স্পর্শের গভীর থেকে উঠে আসছে আরেক মানুষ।
যদিও অন্ধকারে পা রাখার জায়গা খুঁজে-খুঁজে  পায়ের কথাই ভুলে গেছ, ভুলে গেছ ক্লান্তি ও হতাশা  রাত্রির সঙ্গমরত নদী ঢেলে দিচ্ছে বিষজল  চতুর্দিকে সময়ের ভুক্তাবশেষ, মাকড়সার মতো মৃত্যুসুখ।
দিনশেষে যদি দ্যাখো করোটির ভেতর সূর্য ডুবছে  অদৃশ্য শিশির-হিমে নিভে যাচ্ছে চিরব্রতী আগুন  প্রার্থনা করো, বুকে যে সামান্য তাপ ছিল  প্রলয় চিৎকারেও তার কোনো গান বন্ধ থাকেনি।

চন্দ্রলেখা মহান্তী

Image
চন্দ্রলেখা মহান্তী জোয়ার
বেলাভূমি উত্তাল তৃতীয়পুরুষ কথায়  অথচ ছুঁয়ে থাকা বাতাস  বয়ে যাওয়ার আগে  আমরা শুধু এঁকেছিলাম সমুদ্র  আকণ্ঠ ডুবন্ত লবণাক্ততা জাহাজডুবির পরে আঁকড়ে ধরেছিলাম হাতের স্পন্দনে মাস্তুল
এভাবেই হারানো, লেখা থাকে প্রস্থান তবুও কি উপর্যুপরি ঢেউ ভেঙে জোয়ারে ফিরে আসা যেমনভাবে শ্রাবণ চলে গেলেও অত্যাচারী বর্ষাপ্রেমিকের সিক্ততা রয়ে যায়

ইন্দ্রনীল রায়

Image
ইন্দ্রনীল রায় হলুদ পাতায় লেখা তারপর সেও এল ভিড়ের ভেতরে   অপলক দর্পণ সদৃশ চোখে আটকে গেল স্বপ্নপোড়া চোখ শ্রাবণ সজল মেঘ   চোখে তার বিদ্যুতের ভাষা ভালোই তো, নব্যকথা   হলুদ পাতায় লেখা হোক!
ছলোছলো জলকথা জড়ানো সে মেঘের আঁচলে তবে কি এ-শ্রাবণে   নামাতে পারি মেঘভার সূর্যোদয়ের আগে যেই কথা লিখেছি বাদলে সব স্বপ্ন-অসম্ভব   হবে আজ মেঘমল্লার!
অসূর্যম্পশ্যা নদী যদি তার বহতা লুকায় কোনোদিন বালি খুঁড়ে তার জল তুলে আনবো না এসব জলজ কথা লেখা হবে গোপন আখরে ভীষণ আড়ালে    ধীরে   জমে উঠবে   গূঢ় সম্ভাবনা।

কাকলি দাস

Image
কাকলি দাস কথা কেউ রাখে না
অনেকগুলো শব্দ, ক্রমাগত আছড়ে পড়ছে গরাদ ভেঙে ওরা যাচ্ছে ফিরে কথারা কেন আসে বারবার স্বপ্ন নিয়ে নেশাতুর চোখ, হাকুস ভিজে থরথর কাঁপে অঘোষিত রঙহীন বরষায় রেস্তোরাঁর আড্ডায় ডুবে যাবো একদিন তুমিও তো বলেছিলে, তাই না?  সানগ্লাসে ঢাকা মুখ,আর যায় না চেনা  সময়ের সরণি বেয়ে হারিয়ে যায় কথা দেওয়া যত কথারা... রূপকথার মেঘ আবছা হতে-হতে হারিয়ে যায় স্বপ্নের ক্যানভাস, ভরে ওঠে কার্বনে

জয়া ঘটক

Image
জয়া ঘটক স্তব্ধতা 
যতটা কাছে আসলে
নিঃশ্বাস গহিন হবে,  ততটা কাছে এসো। বুঝে নেবে, ক্ষয়হীন এক-একটি বিন্দু। বহুদিন আগেকার  জল, ভিজিয়ে দিতে পারে এখনও তোমায়।
জেনে নিতে হবে ইচ্ছের রঙগুলোকে।
রাত্রির আবরণ খুলে গেলে ধাবমান ব্যাধ ভাঙবে অদৃশ্য সাঁকোটা।  তারপর ভাসান হবে...
প্রেতশিলা থেকে নেমে আসবে জলের গোপন ঘাতক।তারপর আর কোথাও যাবার নেই। 

শুধু থাকবে এক বিষণ্ণতা বিদায়। 

জয় সিংহ

Image
জয় সিংহ স্বপ্ন, মেঘ

মাঝরাতে ভেঙে যায় স্বপ্ন
সুনীরবতা ভাঙে যত স্মৃতিকথা, ব্যথা
দুঃসহ জমে থাকা অন্ধকার মেঘ হয়ে উড়ে যেতে থাকে
আত্মকথা পিঠে বয়ে নিয়ে চলে মেঘ দূর থেকে দূরান্তের দিকে পর্যটকের অন্তহীন হাঁটার মতো
মেঘ যেন বৃষ্টিরই রূপান্তর প্রবল বন্যায় যেমন ভাসায় ঘরবাড়ি কে জানতো আমার স্বপ্ন আমাকে দেখাবে,
মাঝরাতে উদ্যত তরবারি !

দিশা চট্টোপাধ্যায়

Image
দিশা চট্টোপাধ্যায়  ক্রমশ জন্ম থেকে অভিমানী শরীর এগিয়ে আসে  মাটি হবে বলে। আলো ক্রমশ উজ্জ্বল  স্মৃতি ক্রমশই  মলিন--- মাটি পুড়তে-পুড়তে ইট... বয়স এগোতে-এগোতে পাথর! পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কেঁপে ওঠে ভিত চারিদিক শব্দহীন গহিন পরাজয়ে শরীর সরে-সরে আসে মাটির কাছাকাছি।

নবনীতা সেন

Image
নবনীতা সেন তৃতীয় নয়ন
যে আমায় উপেক্ষায় দূরে ঠেলে দেয় 
আমি শপথ করেছিলাম   আমৃত্যু তাকে ভালোবেসে যাবো। যে আমায় অবজ্ঞায় প্রত্যাখ্যান করে, কথা দিয়েছিলাম তার শরীরে একেঁ দেবো একশো-আটটা উল্কি ভালোবাসার। যে আমার অস্তিত্বকে অগ্রাহ্য করে, শুধু   তার নিরাভরণ রূপ দেখার কামনা-বাসনায়  তাকে আমি একবার দেখাতে চেয়েছিলাম নাভিপদ্ম  থেকে উঠে আসা সে চোখ-ঝলসানো আলোর জ্যোতি।  তাকে আমি ভস্মীভূত করতে চেয়েছিলাম, আমার তৃতীয় নয়নে।

নীহার জয়ধর

Image
নীহার জয়ধর  অ-প্রাকৃত
তাহলে দু পা ফাঁকা করে দাও সমুদ্রে  উষ্ণস্রোত ডাকো কামনায় অহংকারী টেথিসও হতে পারো  পর্বতমালা যদি ফুঁড়ে ওঠে বুকে সম্ভব হলে কিছু লাভার স্রোত উগরে দিও।
তারপর আমাকে আফ্রিকা করে  যাতায়াত পথ মুছে দিও  আমি প্রাকৃতিক দূরত্বে চলে যাবো 
তুমি উদ্ভিন্ন এশিয়া হবে, দেখবো না, বহু ইউরোপ তোমাতে উপগত হবে, অগ্নিমান্দ‍্য স্বাদ জিভে তখন হৃদয়ে আসবে না কোনো খাণ্ডব, দহনকামনায়।

বিশ্বজিৎ মণ্ডল

Image
বিশ্বজিৎ মণ্ডল
স্বভাবী অন্ধকার

১. নির্নিমেষ দেখেছি-----পৃষ্ঠাজাত প্রথম আদম...

অভাব বলে কিছু তো কিছু ছিল না, সেইসব                                     পোশাকি এদন উদ্যানে
তবুও অবিশ্বাস্য খেলে, নিষিদ্ধ ফল... নগ্নতার মুগ্ধতায় আজও খোঁজে-----প্রিয় সঙ্গিনী-আঁকা, অদৃশ্য উপবন
এভাবেই হু-হু বেড়ে গেছে স্বভাবী অন্ধকার
২. সমস্যা তো রয়ে গেছে-----

মাখা-মাখা বিকেলে প্রান্তিক গালিচায় বসে ডেকেছি----- আয় প্রিয়ভাজন,চণ্ডালিকা পর্বে শুরু করি-----                                                        তুমুল নাচ
অদূরে কারা যেন অপ্রসন্ন ঝুমুরে এঁকে দিচ্ছে----- কালাহারির আর্তনাদ...
এইবার নির্ঘাৎ ডুবে যাবো, স্বভাবী অন্ধকারে

মনামী ঘোষ

Image
মনামী ঘোষ 
পোড়া
তুমি বললে পুড়বে নদীর ধারে বদ্ধ চুল্লি তোমার না-পসন্দ আমি তোমায় শক্তি শোনাই, বলি এই দেখেছো! ভাবনা একধরন
তুমি বললে জল চাও না মোটে এক কুষি না, এক নদীও নয় তোমার শুধু জলের বাতাস দাবি উড়িয়ে দেওয়া সবটুকু সঞ্চয়
উত্তুরে বা দখিন হাওয়াই হোক তোমার সাথে বড্ড দহরম ভূগোল তোমার বাতাস-কেন্দ্রিক আগুনও চায় বাতাস হরদম

রীণা কংসবণিক

Image
রীণা কংসবণিক  আমরা কারা 
মানুষ, মানুষের মুখ  মানুষ, মানুষের চোখ  একে অপরকে গভীর পর্যবেক্ষণে! 
রাত্রির সুগন্ধ শরীরে, হাঁটছি 
জেব্রাক্রসিঙে অবনত মাথা অনন্তকাল! আমরা কারা? কোথায় যাচ্ছি?  গন্তব্যহীন আমরা হাঁটছি। আমরা কি সমুদ্রের দিকে?  পাহাড়!  জানি না...জানি না!

রেহানা বীথি

Image
রেহানা বীথি  ফাঁকি

দেখতে পাই, টলটলে জলের তলায় একফোঁটা জীবন 
হাত বাড়িয়ে ধরতে গেলেই অদৃশ্য।  বায়ুহীন আকাশে দুই-একটা ঘুড়ি  উড়ে বেড়ায় ফিঙে পাখির মতো  মেঘ ওড়ে জলের নিচে, কৈশোরসদৃশ বৃষ্টি হয়নি, বৃষ্টি ছিল না কোনোদিন  একথাই শুনে এসেছি এতকাল  তবু যখন চোখ বুঁজি, বৃষ্টি পড়ে  ঘাসফুল ভিজে যায় হাজারে হাজার।

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়

Image
শান্তনু চট্টোপাধ্যায় তৃতীয় কেউ

নিজের ভিতরটুকু খুঁড়ে-খুঁড়ে আলগা করে ফেলি
শিকড় চাড়িয়ে গেছে কুয়াশার দিকে
পোশাক বদল আর মুখোশ ফেরির সময়ে  অপরিণামের রঙ ঘরদোরে পিছলে পড়েছে
আমাদের বুকপকেটে  বেনামা  কষ্টের ঢেউ                             ঝুমঝুম জ্বলছে-নিভছে

সঙ্ঘমিত্রা সেন

Image
সঙ্ঘমিত্রা সেন ভালোবাসা 
দিয়েছ অনেক দামি উপহার  গায়ে-হলুদ ওই পলাশের ফুল  ভালোবাসা দিয়ে এঁকেছ আকাশ  এক অরণ্য...জেনে পথ ভুল 
কুহুতান আর ঝর্নার ঘ্রাণ 
পাহাড়ের বুকে বড়ো অভিমান  তিল-তিল কোরে..করে সঞ্চয়  একজোড়া চোখ...একটি হৃদয়

সোমা দত্ত

Image
সোমা দত্ত ধস নামে  
ধস নামে...ভেঙে যায় ঘর... দু-চারটে মৃতদেহ সন্দেহ করে প্রসারিত সমস্ত হাত কঙ্কাল হতে-হতে বায়বীয় একটি সবুজ ফার্ন দায়হীন দেহ মেলে দ্যাখে কেমন করে পরিবার এক দেহ থেকে অন্য দেহ খোলে। সমস্ত জমানো ঘুম দখল করেছে শীত নিখাদ শূন্যতা দিয়ে মাপে একের পর এক গাছেদের বেঘোরে মৃত্যু নতুন জন্ম, সপ্রতিভ প্রেম নিখুঁত ছুরির মতো কেটে যাওয়া উচ্চাশা হাই তোলে...ধস নামে সমতল ভেঙে যায়...স্রোত চলে...

সোনালী ঘোষ

Image
সোনালী ঘোষ মনখারাপের সঙ্গে কবিতার রসায়ন
"মাথার ভিতরে স্বপ্ন নয়, কোন্ এক বোধ কাজ করে; স্বপ্ন নয়—শান্তি নয়—ভালোবাসা নয়, হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়; আমি তারে পারি না এড়াতে," ভেতরে ঘুরপাক খায় কাটা অতৃপ্তি, গলার কাছে জমাট-জমাট বাষ্প, তখন খুব ইচ্ছে হয় উড়ে যাই,  গুঁড়ো-গুঁড়ো রোদ মাখি বা আকাশ থেকে সোঁ করে বৃষ্টির সাথে ঝাঁপিয়ে পড়ি নদীর বুকে তারপর সাঁতরে সাঁতরে কোনো এক ময়নাদ্বীপে...এসব রূপকথা সকাল-সন্ধে পাতে বেড়ে নিই, উড়ান ভরি, কিন্তু সে-উড়ান গোঁত খাওয়া ঘুড়ির মতো এসে পড়ে ভাঙা পাঁচিলে। তীব্র যন্ত্রণা হয় অপাঙ্গে। কলম তুলে নিই, মনের ভেতরে জমতে থাকা অনুভূতি ভরে দিই কালির ভেতর। আর হঠাৎই সব এলোমেলো হয়ে যায়। একটা প্রবল ঢেউ আছড়ে পড়ে খাতার পাতায়। নিমেষে ভরে যায় অক্ষর। কিছু বোঝার আগে তুলোর চেয়েও নরম হয়ে ওঠে মন। অকালবর্ষা হয়, চারদিক ময়ূরের ডানার মতো ঝিলমিলিয়ে ওঠে, বারবার অক্ষর ছুঁয়ে থাকি, দেখি লেখাগুলো।  
বরাবর কবিতা পড়তে বড়ো ভালোবাসি, বিশেষত মন যখন খুব খারাপ থাকে। আর তখনই দেখি, আমার অনুভূতিগুলো গণকঠাকুর লিখে গিয়েছেন; উপায়ও বাতলেছেন।আর সুনীল গঙ্গোপাধ‍্যায়ের শাশ্বত ঠোঁটে শুনেছি অমোঘ বাণী : "শু…