Posts

Showing posts from June, 2020

ভাষা | জুন ২০২০

Image
প্রসঙ্গত  'ভাষা'-র প্রথম সংখ্যা যখন বেরিয়েছিল, ২০০১-এর অক্টোবরে; তখন ভাবনাতেও আসেনি একদিন তার অনলাইন-প্রকাশও হবে। তখন না-হয় আমাদের হাতের কাছে এইসব সুযোগ ছিল না। কিন্তু যখন থেকে ইন্টারনেট ঢুকে পড়েছে ঘরে-ঘরে, তখনও 'ভাষা'-কে মুদ্রিত মাধ্যম থেকে তরঙ্গায়িত পথে নিয়ে আসার কথা তেমন করে ভাবিনি। হয়তো ভাবলাম একবার। কিন্তু কাজ শুরুর সময় আবার বেছে নিলাম মুদ্রণের সেই অভ্যস্ত অঙ্গন! তবে করোনা-কালখণ্ডে এসে যে তেমন ভাবনা বাধ্যতই ত্বরান্বিত হলো, একথা অস্বীকারের উপায় নেই।
'ভাষা' কোনোদিনই নিয়মিত ব্যবধানে প্রকাশিত হয়নি। নিজের খেয়ালিপনা বজায় রেখে, নিজস্ব ছন্দে ও গতিতে তার বরাবরের পথচলা। আর এইভাবেই তো ১৮ বছর! কিন্তু ২০১৯-এর সেপ্টেম্বরে যখন 'ভাষা'-র ১৮ বছর পূর্তি সংখ্যার কাজ করছিলাম, তখন কি আর আদৌ জানতাম যে পরবর্তী সংখ্যাটি কবে ও কীভাবে করতে পারবো, তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণার সাহায্য নিতে হবে?
তাই সেই অনিশ্চয়তার হাতে 'ভাষা'-কে গচ্ছিত না-রেখে, এই অনলাইন সংখ্যার পরিকল্পনা। যেহেতু এই মাধ্যমে 'ভাষা'-র প্রথম প্রকাশ, তাই কিছুটা সীমাবদ্ধ। নিয়ন্ত্রিত এবং সংযতও বটে। তবে ভবিষ্য…

পিয়ালী জানা

Image
পিয়ালী জানা  আসলেই আমি
শেষ পর্যন্ত যাকে খুঁজি আমরা প্রত্যেকেই, সে হলো আমি। কবির লেখার মাঝে, উপন্যাসে, সিনেমায়, আঁকা ছবিতে। কোথায় নয়? বহু কিছু পড়ে, বহু জ্ঞান ধারণের পর বুঝি, সব কিছু সেই আমিতেই এসে বিলীন হয়। অপর ব্যক্তিকে ভালোবাসি, ভালো ভাবি, তাও নিজের ভেতরের পছন্দ-অপছন্দের গুণাবলী আরোপ করেই। তার দুই চোখে খুঁজি সেই আমাকেই। মনে পড়ে গেল জন ডানের 'গুড মরো' কবিতার কটা লাইন, 'My Face in thine eye, thine in mine appears...' প্রথম প্রেমের বর্ষণ যখন প্রথম কদম ফোটায়, প্রেমিকযুগল আমিতে-আমিতে একাকার হয়ে যায়। মৈত্রেয়ী দেবী তাঁর 'ন হন্যতে' বইয়ে যা ব্যক্ত করেছেন, যে আকুল ছুটে যাওয়া, তার মনের মাঝে বারবার অতীত-বর্তমান একাকার হয়ে যাওয়া; তা বোধকরি মির্চা ইউক্লিডের চোখে সেই বহু পুরোনো কুসুমকুঁড়ির মতো অমৃতা মানে আমিরই খোঁজ। এই আমি একটা বিন্দুর মতো, জন্ম আর মৃত্যু যার জনক ও জননী। মাঝে যা-কিছু রয়ে যায়, তা আসলে একটা খোঁজ। বনলতা সেন আসলেই কি জীবনানন্দ দাশের নিজেকেই খুঁজে বেড়ানো নয়? যে মজে সেও আমি, যে মজায় সেও আমি। এই আমিকে যে চিনতে পারে, সে কখনোই অন্য ভেবে কাউকেই যন্ত্রণা দি…

শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়

Image
শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়  অন্তর্বয়ন
অতএব ফিরে এলাম প্রজ্ঞার আলোকবলয়ে উত্তরণের প্রত্যয় নিয়ে! যেদিন মাঘের স্রোতে মহানদী তার জীবনবৃত্তে খুঁজে মরেছিল এক অতিপ্রাকৃত দ্যোতনা, সেদিন পূর্বমেঘ আর উত্তরমেঘের ফারাক করতে না-পেরে নূপুর তার পরাহত জীবনের সাধ মিটিয়েছিল আমারই আঁচলে! 
সেদিন থেকে নিজেকে সামান্য ভাবতে পারিনি, অন্তিম সুধা যদি না-ই পাই তবু সহস্র প্রদীপের মাঝেও আমার অন্তর্বয়ন আমাকে মীমাংসা করে দেয় যে উত্তর আজও খুঁজে চলেছি! পরিসর খুবলে খাওয়া সত্তা আর রোজকার বদহজম দূরে নকশিকাঁথার মাঠ দেখিয়ে বলে, চলো ঝালিয়ে নিই সহজপাঠ!
আস্তে-আস্তে খোঁপাতে বাজুতে কপালে জমিয়ে নিই এক-একটা বসন্ত, তোমাকে দেখতে পাই সেই বিবশতায়; কিন্তু ডাকি না, জড়িয়ে ধরি না। জানি সেই  পাঞ্জাবি এই পঙক্তি সবই আপেক্ষিক, কিন্তু জীবনের ধ্রুবা অপ্রতুল! 
ক্লান্ত মুখোশসভ্যতা অমোঘ মানে বহতা কালের বিন্যাসকে, যার চিহ্ণায়ণে জীবনের মৌলিক সেতুবন্ধন রচিত হয়েছে। ছদ্মজীবন তখনও পোশাকের নীচে মুখ লুকিয়ে দেখে যায় প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের নিরীক্ষা! ঐতিহ্যবাহী ডমরুও সেই পরম্পরায় প্রবাহিত বিমূর্তকে মূর্ত করে তোলার আকাঙ্ক্ষায় ধ্বস্ত উঠোনে বেজে ওঠে প্রকৃত জীবনের উপলব্ধিত…

ইলিয়াস বাবর

Image
ইলিয়াস বাবর জোড়া দেওয়ার সব মন্ত্রণা যখন হারিয়ে যায়
মনের খচখচানিটা বেড়ে যায় কড়া রৌদ্রের ঝিলিকের মতোন। ভাবলেই কলিজা মোচড় দেয়, মাথা দিয়ে ওঠে চক্কর। নিজেকে সরীসৃপ বা তারও অধিক জ্ঞান করে চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে হয়। না, না, না... চিৎকার প্রতিধ্বনি হয়ে আসে আমার কানে। তাতে পষ্ট শুনতে পাই, তামাম দুনিয়ায় কান্নার স্বর, ক্ষুধা-তৃঞ্চার হাহাকার, কর্মবিযুক্তির চিন্তারেখা, হঠাৎমৃত্যু আর মাস্তানি। এমন মৃত্যু! ঈশ্বর, কেন তবে এত মনুষ্যহীন করে দিলে মানুষকে? না, ওসব আমাকে দিয়ে এখন হবে না---চোখে চোখ রেখে বলি পিতৃদেবকে।
পিতার কথায় যুক্তি আছে---এমন ছুটি আর মিলবে না অফিসে; করতে হবে না বাড়তি আয়োজন, চুপিচুপি বউটা ঘরে নিয়ে আসলেই চুকে যায় সব। তাছাড়া মা-বাবার বয়স হয়েছে, বার্ধক্যজনিত রোগ আছে---কখন কী হয়, এই ভেবে শংকিত তারা মেজছেলের জীবন নিয়ে। এই প্রথম বড়ো কোনো সিদ্ধান্তে 'না' করলাম তাদের। জানি, সামাজিক দূরত্ব, লকডাউন এসব কিছুই না ক্ষুধার কাছে; অভাবের কাছে। গ্রামে তো বোঝাই যায় মহামারী চলছে! দিব্যি চা-দোকানে আড্ডা চলছে, খবর শুনছে; মৃত্যুটা তাদের কাছে কেবলই সংখ্যা। ভাবখানা এই, ওসব শহুরে বড়োলোকদের! জীবাণুর ছা-পোনা, মৃত…

তনুশ্রী চক্রবর্ত্তী

Image
তনুশ্রী চক্রবর্ত্তী উন্মোচন
কতদিন হলো পুনর্জন্ম দেখিনি! পুনর্জন্ম অর্থ কি শুধুই মৃত্যুর বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে থাকা এক উজ্জ্বল আলোর উপাখ্যান? নাকি নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের বুকে একটুকরো বোহেমিয়ান আশার আলো, যাকে আদর করে জোনাকির মতো বুকের গভীরে লুকিয়ে রাখে আমাদের মতো কেউ-কেউ!
হ্যাঁ একথা ঠিক যে, আমরা সবাই জাতিস্মর নই এবং এই নেই-দলের অনেকের কাছেই জাতিস্মর একটি ধারণা মাত্র! কিন্তু বেঁচে থাকার এই যে আলোকচক্র, তার মধ্যেই কি শত-শত জাতিস্মর, তার জীবন, তার যাপিত অবসর সত্যিই প্রত্যক্ষ করা যায় না? যায় তো! অঙ্কুর থেকে চারাগাছ, আবার তা থেকে বৃক্ষ হওয়া, এর মধ্যেই তো কত-শত পুনর্জন্ম, শত-সহস্র পূর্বজন্ম এবং তার সমাধি, তা ভাবার অবসরই-বা কোথায়? সত্যিই কি তা নেই?
এই যে একটা আদ্যন্ত গতিপথ, একটা লম্বা হাইওয়ে ধরে হুশ-হুশ করে ছুটে যাওয়া এক-একটা আগন্তুক গাড়ি; তারপর আবার একটা, আবার আরও একটা; নম্বর না-জানা, গন্তব্য না-জানা, তবু সেগুলো আসে-যায় অনেকটা ঘটনাচক্রের মতোই।এই যে অসীম চলাচল, একে যদি জীবন বলে ডাকি? কেমন হয়?
এটাই তো জীবন। হঠাৎ থমকে যাওয়া অবসরে স্মৃতি নামক নদীতে এক-একটা ডুব মেরে শুধু দেখে নেওয়ার অপেক্ষা; তারপর আবার চক্ষুদ…

মন্দিরা ঘোষ

Image
মন্দিরা ঘোষ একটি সাদামাটা দিন
দিনের শুরুটাই অন্ধকার হাতড়ে। সকালের  মুখও ম্যাদামারা ঘোলাটে মেঘের মতো। জাগতিক কোনো আবিষ্কারের গন্ধ নেই। বর্ষার বৃষ্টি মাঝেমাঝে মেঘলা মুডটাকে ধুয়ে ছাদে শুকিয়ে নেয়। ভিতরের সাতরঙা পর্দাটা টানটান করে স্টার্চের কাপড় মেলার মতো মেলা থাকে আকাশি আলনায়। সেখানে কসমিক সেতারের ধুন। ভাঁজ-করা নক্ষত্রলোক। রবিবারের দুপুর খাবার টেবিল সেজে ওঠে কচি পাঁঠার লাল ঝোলে। বাঙালির জিভের টনটনানি থামিয়ে দেয় শেষপাতে দইয়ের আবদার আর একছিলি মিঠেপাতায়।
গড়ানো জেব্রাদুপুরে রসিকতায় ডুবে যায় ঘুমকথারা। স্বপ্নের সৈকতে ফ্রয়েডের পুঁথিপাঠ। পাঁশুটে  মেঘজর্জর বিকেলটায় গৃহস্থ ময়ূরের পদাবলীতে ইকেবানার রূপটান।
সান্ধ্য চায়ের লাল লিকারে পুঁজিবাদী অর্থনীতির গা-চাটাচাটি, লালফিতের ফাঁসের মিছিলে ফাঁকা ঘরে গলা তুলে নেট প্র‍্যাকটিস। ভ্যান গগের ইজেলে ইউক্লিডের থিয়োরেম ঢুকিয়ে সান্ধ্য মেহফিলে তর্কের তুফান । 
রাত বাড়লেই ওয়াই-ফাইয়ে স্লো-মোশনে রবীন্দ্র-নজরুল ফ্রি ডাউনলোডিং, বৃষ্টিগানে বর্ষামাতন; ভিজতে-ভিজতে স্বপ্নের ডানায় টাইগ্রিসে পা ডুবিয়ে মিশরের পিরামিডের চূড়ায় সূর্যাস্ত দেখার জীবনচুমুক! দেহভাব ভেসে থাকে আতাফলের সুগন্ধ…

দেবযানী বন্যা

Image
দেবযানী বন্যা  হাওয়া-বাতাস
বেসামাল হাওয়া বইছে পাইন বিছানো পাকদণ্ডি বেয়ে, এ-হাওয়া খাদের ভিতর থেকে কুয়াশার গন্ধ টেনে আনে শৈশবের বনগোলাপ-ঝাড় ছুঁয়ে, পাহাড়সুখী ঘাসফুলেরা মাথা নাড়ে বিজ্ঞের মতো; উপত্যকা বেয়ে হুড়মুড়িয়ে নামা তন্বী নদীটা পাথরে ঠোক্কর খেতে-খেতে মুখ ঘুরিয়ে বলে যায়, আগলে রেখো এই পাহাড়-অরণ্যের নিভৃত দৃশ্যপট। তোমার রুকস্যাকে কী এনেছ সভ্যতা থেকে? অবিশ্বাস! নিজস্ব বিষাদলিপি! অসংখ্য আহ্নিকগতি জুড়ে ভ্রাম্যমাণ অবসাদ! একলা হয়ে যাওয়া রাতে মাথার ভিতরে কিলবিলে আত্মহত্যার ছক? স্নিকারে লেগে থাকা ট্রেনের টিকিটটা ঝেড়ে ফ্যালো, আসাটাই থাক….ফেরার হিসেব নাই-বা মেলালে। ধূপিগাছের ছায়া মেখে এই যে এতটা পথ হাঁটলে পকেটে দু'হাত পুরে; হাতের পাতা এখন তৃষ্ণার্ত, খুলে ফ্যালো গ্লাভস, দু'হাতে মেখে নাও ঝিঁঝিঁদের নির্জন আলাপ। তোমার ওপর এখানে কোনো স্পটলাইট নেই, প্রতিপক্ষ কেউ নেই, তর্জনী মুড়ে রাখো, ও এখন বিশ্রাম নিক। ওই যে খাদের দিকে মুখ করে অপেক্ষা করছে আর্দ্র আদিম প্রস্তর, একটু বসেই যাও; তোমার জন্য আজ পাহাড়ি বাতাসেরা সেজেগুজে হাজির হলো যে, নেবে না আদর! আহা…ওদেরও তো প্রতীক্ষা থাকে সভ্যতার দহন জুড়োবার।

পিয়াংকী

Image
পিয়াংকী  দশমিক ধাপে-ধাপে পূর্ণসংখ্যায়  
স্বনির্ভর  একটা নীরব বিকেলে ঠিকানা ভেঙে আটকে থাকি নিজের নামের কয়েকটা অক্ষরে, ঝরাপাতা আবছা হয়ে আসা সূর্য, গতজন্মের সমস্ত নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস একত্র করি। পুষ্পপত্রে নৈবেদ্য সাজে যেমন সন্ধ্যারতির অছিলায়, ঠিক সেই সূত্র মেনে হিসেব করতে থাকি সমাধানের।  
স্বস্তি  সবকিছু ঝেড়ে ফেলার একটা মুহূর্ত থাকে, কুলো উল্টে ফেলার আগের সময়টা বড্ড বেশিমাত্রায় সম্ভ্রমের। লাজুকহীন চাহনি তন্নতন্ন করে খোঁজে একটা বিন্দু, বিন্দুতে সিন্ধুর মতোই আপাদমস্তক তার পালকে সাজানো। তুমি পাখনায় বিশ্বাস খুঁজে মরো আর বিপরীতে তোমায় গিলে খেতে আসে প্রেম। 
স্তর  জলবিষুবের তারিখ ভূগোল বুঝিয়েছিল, কবেকার সে-সব কথা। মনে রেখে পরীক্ষায় বসা বড়োই দুঃসাধ্য ছিল সে-সময়। আজকাল আর তা হয় না, আশ্চর্যভাবে ধর্ম বদলে ফেলেছে আমার স্বচরিত্র। চিনতে ভুল করে প্রাক্তনের গলিতে ঢুকে পড়ি বারবার; অথচ মস্তিষ্ক জানান দিচ্ছে সমস্ত কিছু বর্তমানে গোছানো-সাজানো, ঠিক যেভাবে শীতল শাল জড়িয়ে রাখে উষ্ণতাহীন দেহ। জলবিহীন স্নান সেরে ফুলহীন উদ্দেশ্যপ্রার্থনায় বসেছি। কলঙ্ক ঘষে-ঘষে তুলছে আত্মদর্শনের প্রতিটা মন্ত্রোচ্চারণ। 
সত্ত্বা একটা পরিত্যক্ত …

মানস চক্রবর্তী

Image
মানস চক্রবর্তী 
সালমা ও একটি জন্মান্ধ মাছ  এই জন্মান্ধ মাছটি সাগর চেনে না। শ্যাওলার কাছে যা-কিছু সবুজ চিনে ঘাট ধরে বসে থাকে রোজ। তাকে কেউ শিকারও করে না। শখের ছিপুড়ে বিরক্ত হয়ে মুখ থেকে বঁড়শি খুলে ছুঁড়ে দেয় জলে। কুমারী মেয়েরা জানে, ঘাটে নামলে কুটকুট করে ঠুকরোয় জন্মান্ধ মাছ। তাদের নাভিতে, যোনীতে, পায়ের পাতাতে এক অশ্লীল ঠুকরানো খেতে-খেতে তারা বিগলিত হয়ে যায়। 

জন্মান্ধ মাছটির জন্যে কেউ আর চার ছোঁড়ে না, বোলতার ডিম দিয়ে টোপ বানায় না...কেউ আর এ-পুকুরে ছিপ ফ্যালে না। কেউ আর নাইতে নামে না। সালমাই একা চান করে। অনেকক্ষণ ধরে। রোজ। সালমা বেধবা হয়ে বাপের ঘরে এয়েচে তিনমাস। 
হরিণ বোধহয়  আমার উঠোনে সন্ধে হলেই একটা হরিণ আসে। ট্যারাবেঁকা শিং, বকুলচারাটার গা চাটে, যেন আদর করছে মনে হয়। তখন বুঝতে পারি, এটি আসলে হরিণী। কতক্ষণ থাকে জানি না, একসময় চলে যায়, বোধহয় রাঙচিত্তিরের বেড়া টপকে ও বেরিয়ে যায়। একেকদিন টের পাই। আমার উঠোনে শিউলি গাছটার গায়ে ও গা ঘষে। দেখি না। গা চুলকোয়। অবিকল মানুষের মেয়ের মতো, ভাবি। চাঁদ উঠলে একদিন আগল খুলে দেখবো ভাবি। আবার লজ্জা পাই। মেয়ে তো, এভাবে আড়াল থেকে তার এলো-গা চুলকোনো দেখা কি ঠিক! 

ভুল…

রাহুল ঘোষ

Image
রাহুল ঘোষ  এখনও দৃশ্যান্তর ঘটেনি
শব্দময় চোখের আড়ালে। একথা লিখেছি প্রিয় জাফরানি রঙে। প্রিয় কথাদের অবিচুয়ারি প্রিয় রঙেই লিখতে হয়। এককোণে গাঢ়তর নীল। বিষাদের ওই রঙে লিখেছি নিজের নাম। পৃথিবীর সকল পরাজিত মানুষ কোনো-না-কোনোদিন ওই রঙে নিজেকে লিখেছে। তবুও তো প্রশ্নের জন্ম হয়! মানুষের মৃত্যুমিছিল আর তারাদের খসে পড়া মিলে, কেন এত ভারি হলো পৃথিবীর বুক? সিপিয়া রঙের বারান্দা থেকে সরে যেতে হয়েছে এবারেও। ঠিক যেন গতজন্মের ঘটনা! যদিও মায়াবী সে-রঙটি জন্মান্তরের কথাই বলেছে সর্বদা। তবুও কবে যেন স্বনির্মিত রঙমহলের দরজা বন্ধ করেছিল ঈশ্বরী! মগ্ন সাধকের ইবাদত তখন থেকে বেওয়ারিশ। 
অথচ রবীন্দ্রনাথ আমাকে একটা অতুলনীয় পঁচিশে বৈশাখ দিয়েছিলেন! ভুলের আড়াল ছিঁড়ে, বেরিয়ে এসেছিল আশ্চর্য একটা আলো। ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন পাথরপ্রতিমার সমস্ত টুকরো খুঁজে এনেছিলাম আগেই। সবটুকু জুড়ে-জুড়ে, প্রাণ দেওয়া হলো সেদিন। এবার আর কোনো মুখোশ নয়। অবশেষে একটা মুখ এল। সেও তো জীবনে 'জীবন' যোগ! ভূগোল অগ্রাহ্য করে, সর্বদা যেন ছুঁয়ে থাকে সে। শ্বাসে যেন মিশে থাকে তার ঘ্রাণ। এইটুকু চাওয়া ছিল শুধু। পাওয়া ছিল বরং প্লাবনের মতো। তবুও কীভাবে "ছায়ার ম…

শৌভিক কুন্ডা

Image
শৌভিক কুন্ডা ভাঙা সেতু
সম্পর্কগুলো একা-একা জোনাকির মতো জ্বলে-নেভে। অন্ধকারে  তাদের মাঝখানে অপরিমেয় দূরত্বটুকু শুধু ধরা দেয়। ঝাঁকবাঁধা রোশনাই, কেতাবি লেগগ্লান্স বা ফ্লাইটেড স্পিনের মতো হারিয়ে যায়। তবু তো হাতের মুঠোয় চরাচর। প্রযুক্তিজাল বেয়ে ছুটে আসছে অগুনতি অ-বাস্তব অবয়ব।  দুঃখ-সুখের, দৈনন্দিনতার আদানপ্রদান হয় যান্ত্রিকভাবে। বস্তুতই কি তা সংযোগ? কতটা গভীরে তার কর্নারস্টোন, হৃৎপাথরের লাবডুব?
পকেট হাতড়ে তবুও দেখি কিছু খুচরো পড়ে আছে। জড়ো করলে যাদের সামগ্রিকতাকে 'আশা' নামে ডাকা যায়। ওটুকু মূলধন সম্বলিত আমি তাই নিশ্চয়  করে জানি, একদিন-না-একদিন পথচলা, একলা হতে থাকা ব্যস্ত মানুষ আমার সামনে থামবে। দু'দণ্ড হলেও একাকিত্ব কাটবে তার, আমার। কিছু নিছকই অপ্রয়োজনীয়, তবু উচ্চারিত শব্দের  আদানপ্রদান, তারপর না-হয় আবার যে-যার গন্তব্যে! আমার এ-ও বিশ্বাস, যে ভাঙা ব্রিজের কথা বলছিলাম, যার আরেক নাম সংযোগ, আমাদেরই কয়েকটি একলা মানুষের নিজের তাগিদে তার মেরামতি সম্পূর্ণ হবে। এপার-ওপার ব্রিজের মাঝ-বরাবর এসে একে অন্যের হাত ধরবে। হয়তো এক সিগারেট সময়কাল, তবু একসাথে কাটাবে। ব্রিজটির পূর্বজন্মের ম্যাটমেটে হলুদ …

মৃণালিনী

Image
মৃণালিনী  এ-আঙুর টক নয়
এই যে হঠাৎ আমাদের দেখা হলো। আগুনের ফুলকি জ্বলে উঠলো অন্ধকারে...নিভে যাওয়া ধোঁয়ায় তোমার সব ভুলে যাওয়া, আর আমার স্মৃতির দহনপর্ব... 
ভালোই হয়েছে, 'তুমি ও আমি' মিলে আমাদের কোনো নতুন পৃথিবী তৈরি হয়নি। ব্যাট ও বলের জন্য যে খোলা ময়দান প্রয়োজন, সেখানে ভিড় করে আছে তোমার পূর্বতন বিশ্বশ্রেয়সীর দল। 
আমাদের কোনো সম্পর্ক হলে, দূরের ছবি কাছের হলে আমি আরও নিঃসঙ্গ হতাম, তুমিও বিরক্ত হতে বেশি। তোমার কবিতায় সুর খুঁজতে গেলে, তুমিও ঝাঁপিয়ে পড়তে আমার নিরস গদ্যে। লজ্জায় লাল হবার পরিবর্তে তোমার শব্দের চাবুকে লাল হয়ে উঠতাম রোজ। তুমি বিতৃষ্ণায় অশ্লীল শ্রাবণ ঝরাতে। আকাশের দিকে মুখ করে চাইতে মুক্তি আর আমি তোমার নেশার ঘোর বুকে জড়িয়ে চাইতাম তোমার ছোট্ট প্রতিচ্ছবি। তোমার বিশ্বজ্ঞান অন্ধকারে ব্যঙ্গ করে যেত আমার সংকীর্ণতা; লজ্জায় নিজেকে গুটিয়ে নিতাম। চুলোচুলি নয়, অভিশাপ নয়, হতাশাও নয়। আমাদের মধ্যে 'আফশোস' দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো অভিমানের তালা ঝুলিয়ে। দেওয়াল টপকে দু'জন দু'জনের কাছে আসতে চাইতাম, নাকি বিপরীতদিকে ঝাঁপ দিয়ে মুক্তি; এ-বিষয়ে ভাবতে-ভাবতে জীবন বয়ে যেত। আমরা ভুলে যেত…

অতনু গঙ্গোপাধ্যায়

Image
অতনু গঙ্গোপাধ্যায় পৌঁছতে চাইছি 
যাবো বললেই যাওয়া হয় না। ভুবলয়ে তন্নতন্ন করে খুঁজেছি সেই রেখাগুলি। গ্লোবের উপর পাক খেয়ে ক্রান্তিবলয়গুলিকে ভাবতাম কেবলের তারের মতো ঝুলে আছে। পৌঁছতে চাওয়া আর পৌঁছে যাওয়া এই ক্রান্তিকালের মধ্যে পদচারণ অভ্যাসে চলতেই হয়। পাহাড়ের বাঁক শেষ হলেই গন্তব্য ভেবে একটু পা-চালালেই দেখা যাবে, আবার উপত্যকার ঢাল। তারপর অন্য শীর্ষদেশের মুকুট ডাকছে। চলতে হয়। নিরলস অভ্যাসে একা-একা কথা বলা, সাথে দণ্ডি কাটা দণ্ডিত দণ্ড। নদীটাকে হারাতে হয় পথের আঁকাবাকায়; কিন্তু কলস্বরের ঝরনা যেন অবিরাম বয়ে চলে ইরা,পিঙ্গলা হয়ে সহস্র মূলাধারে। ঘন তমিস্রায় দুধের সরের মতো আলোয় ঘুম ভাঙে। মিনারেল শেকড়ের কাছে বাসনার আড়মোড়ায় পৌঁছে যায়। ভাঙে গাছেদের ঘুম, পাখির একটি পালক পতনের শব্দে ঘোর কাটতে থাকে। মঞ্চ আছে, কিন্তু আলো নেই। আলো যতক্ষণ আছে, অন্ধকারবাস তার চিলেকোঠায় ফিসফিস করে বারবার নিশিডাকে পথ ভুলিয়ে দিতে চায়। পৌঁছে গেলেও আবার বিপরীত নিয়ে আসে যাত্রা শুরুর পথে। শ্যাওলাজালিকা স্রোতকুম্ভের নাম রেখেছি স্মৃতি। বড়ো বাসনার কুহক। 
এক নারী, এক নদী,  এক পাহাড় পেরোনোর মাঝে নকশি নির্মিতি ক্ষরণ।  অজস্র পথনির্দেশের কাছে …

মধুপর্ণা রায়

Image
মধুপর্ণা রায় বঙ্কিম ঠাটের নীলপদ্ম 
মৃত্যু ঘিরে ভাবনার মূল উৎস রোম্যান্টিসিজম, এমন তো হতেই পারে। নির্ঘাৎ নিশ্চিত ভবিষ্যৎ বলতে জেনে যাওয়া ওই একটিই জ্ঞান, যা অভিজ্ঞতার পথ হেঁটে উপার্জন করতে হয়নি কাউকে। অথচ, মৃত্যুর আগে মৃত্যুকে এতটুকু জানার উপায় পর্যন্ত নেই!  সূর্যের দম্ভে যখন এক্কেবারে স্তব্ধ হয়ে গেছে মাটি-গাছ-পাখি-নদী, এমনকি অমন এক আকাশ...আমি তখন ইনভিজিলেশনে মেয়েদের দেখভালে রয়েছি। নাকি প্রহরায়! আর মস্ত সত্য হয়ে সে এক প্রহরী আমার চৌকাঠের ওপারে দাঁড়িয়েছে শব্দহীন। আমার কেমন মনে হলো, সে মৃত্যু!  আমি যতবার চোখ তুলে স্পষ্ট তাকে দেখতে চাইছি, ততবার জলে-আলোতে সে অস্পষ্ট হচ্ছে! মৃত্যু, সে নারী অথবা পুরুষ? 
কী রঙ ধারণ করেছে সে? সন্ন্যাসী সূর্যের অথবা ঝড়ের পূর্বাভাস?  শুদ্ধ অন্ধকারের কালো অথবা পীতবর্ণ সে? আমার মনে হলো, তার হাতে বঙ্কিম ঠাটের নীলপদ্ম। শরীরের গড়ন এই চার দেওয়ালের পরীক্ষাগারে খুঁজতেই কিছু শ্বেত- অন্ধ জুঁই চৌকাঠে লুটিয়ে গেল।
একটা ছোট্ট কালো-সাদা ফিঙে না দোয়েল, কামিনীর ডালে বসলো আর উড়ান দিল। যেন জীবন এই তো আছে! এই তো নেই। সে যেন স্পন্দন ছিল। যেন প্রমাণস্বরূপ। কিসের প্রমাণ? শ্যামবর্ণ মেয়েটির …

Bhasha, June 2020 Poster

Image

Announcement

ভাষা-র ১৯ তম বছরে
            ৩৩ তম সংখ্যা
                  প্রথম অনলাইন সংখ্যা
আসছে, খুব তাড়াতাড়ি...