Posts

Showing posts from 2020

ভাষা, শারদ ১৪২৭|২০২০

Image
প্রসঙ্গত  একটা কথা বরাবর বিশ্বাস করেছি। পত্রিকার সম্পাদকীয়তে খুব বেশি কথা বলতে নেই। যতটুকু মুখবন্ধ না-করলেই নয়, ততটুকুই। বাকি কাজটা পত্রিকায় প্রকাশিত লেখা, ছবি, অঙ্গসজ্জার। তবু্ও কম-বেশি কিছু বলার থেকেই যায়! ভাষা মুক্তগদ্যের কাগজে পরিণত হয় ২০১৬ সালে। তখন তার বয়স ১৫ বছর। একথা আমাদের পুরোনো পাঠকেরা জানেন। বাংলা ভাষায় পাঁচমিশালি পত্রিকাই সবচেয়ে বেশি। ভাষাও তাই-ই ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট বিষয় বা বিভাগ ধরে কাজের ইচ্ছাও ছিল প্রবল। এরকম কাজ যারা করে, তারা অধিকাংশই কবিতার পত্রিকা। আমাদের নবীনতর পত্রিকা মুক্তধারাও যেমন। গল্পের পত্রিকা হয় অনেক কম। প্রবন্ধের পত্রিকা তুলনায় সামান্য বেশি। কিন্তু মুক্তগদ্যের পত্রিকা আমাদের জানাশোনার পরিধি (যেটা একেবারে ছোটো নয়) পর্যন্ত একটাও ছিল না। অথচ বাংলা লেখালেখির এই প্রগাঢ় সম্ভাবনাময় দিকটি নিয়ে চর্চার সুযোগ ও সম্ভাবনা প্রচুর। এই ভাবনা থেকেই ভাষা মুক্তগদ্যের কাগজে পরিণত হয়। যার জন্য দৈনিক সংবাদপত্রের আলোচনার পাতা থেকে সন্ধিৎসু পাঠকের পাঠ-প্রতিক্রিয়া পর্যন্ত, অগাধ প্রশ্রয়ে আমরা স্নাত হয়েছি। এখন, ভাষা-র ১৯ বছর পূর্তিতে দাঁড়িয়ে, আমরা মুক্তগদ্যের পত্রিকা হিসেবেও যখন প…

সোমা দত্ত

Image
আমি আর অরুণিমা 

আমি আর অরুণিমা হাত-ধরাধরি করে চলেছি সেই কুয়োর ভিতরে, যেখানে শরীরের ভিতর থেকে সমস্ত দোষ এক-এক করে খুলে রেখে আমরা মরালীর মতো ভাসতে পারি সবুজ শ্যাওলা ঠেলে। 
অরুণিমা আগে পৃথা ছিল, ক্রমশ পুরুষে-পুরুষে ওর নাম বদল হয়েছে। প্রথমত ওর শাড়িতে বাদামি ক্ষত ছিল, ওর জামায় খোলা সেফটিপিন, ওর চোখের তারায় খুব সরু হয়ে জমেছিল অগভীর হ্রদ, আঙুলের ফাঁকে-ফাঁকে ধারাবাহিক সংস্কারের দাগ, চোখের তারায় ঈষৎ নিকোটিন...
দ্বিতীয়ত শহরের সমস্ত কানাগুলি ছুঁয়ে আসা নিন্দা ছিল ওর বাহুমূলে, প্রশস্ত কপালে ছিল অন্ধকার টিপ, গলা ছুঁয়ে নেমে আসা সুড়ঙ্গপথে অস্থির দাঁতাল মহিষ।
অরুণিমা, যার নাম পৃথা ছিল; অরুণিমা, যে কারও প্রেমিকা ছিল, নির্ভার হয়ে কিছু অস্ফুট জিজ্ঞাসাচিহ্ন তুলে দিল আমার সান্নিধ্যকে। 
আমার পোড়খাওয়া সান্নিধ্য ঈষৎ ময়লা, ধোঁয়াটে বর্ণ চোখের কোটরে...আমার নাম যে-কোনো দীর্ঘ বর্ষাকাল, আমার পরিচয় যে-কোনো ইউক্যালিপটাস, আমার গান সপ্তর্ষিমণ্ডল , আমার হাসি দামোদরের খিদে, আমার প্রতিবাদ ভালোবাসার হাতিয়ার। একদিন আমি যে-কোনো একটি মেয়ে ছিলাম মনে; এখন শুধু শরীর, এখন আমার নারী সাঁতার কাটে শুধুমাত্র শরীরে...
তারপর এল সেই বিপ্লবের র…

রত্নদীপা দে ঘোষ

Image
আয় ফিরে আয় আমার কাছে

ভাবছি। আসলে ভাবছি না কিছুই। এখন ফেরা। ফেরাসুতোর গিনি জড়িয়ে পরবাস থেকে স্বদেশে। ফেরাটি ভাবছে, ফিরতে যখন হবেই, এত কান্না কেনই-বা! মহাশূন্যে শুনশান তাঁতশিফনের জাজিম। তারাগড়া রোদ। রোদের প্রান্তস্টেশন। কী করে দিশাহীন সময় কাটাই এখন, ভাবছে গতজন্মের কবজি। 
শূন্যে দুলছে পা। হাতের মুঠি খুলে দিয়েছে সময়ঘড়ি।
মুহূর্তনাভি বলছে, দ্যাখো চেষ্টা করে। দিগ্বিদিক ঘেঁটে যদি খুঁজে পাও গতজীবনের ওলোসই, গজলবৃক্ষের লাবডুব! দ্যাখো চেষ্টা করে, যদি পারো লিখতে আত্মকলম! কথনের গ্রাম শহুরে জীবন। তিমিনীল সমুদ্র যদি পাও শুনতে, তবে নির্মাণ হলেও হতে পারে সাধকের ছেনি ভাস্করের হাতুড়ি!
কিন্তু এসব কিছুই হয় না। ছায়া তো দূর! মেরামতের আগাম-জামিনটুকুও রাখে না কথা! এমন আশ্চর্যের সম্মুখীন আগে তো হইনি কোনোদিন। এমন অন্ধকার দেখিনি, যা অতিকায় আলোর চাইতে অধিক সম্ভবামি। এমন বাতাসের গতিবেগ, যার আবেগের নিসর্গটি প্রতি ঘণ্টায় যায় বদলে। 
শীত এখানে চরম দমদার। বর্ষার দ্যাখা পাইনি। গ্রীষ্ম বলতে একটু-আধটু ফুঁ। উষ্ণতা খোলা হয়নি এমন দু’একটা মোমবাতি। মহাকাল স্বয়ং ঝুঁকে আছে আয়নায়। ট্রিগারের কাপালিকপনায় ভয় করে না আর। বুঝেছি, মৃত্যুই একম…

রেহানা বীথি

Image
জলমগ্ন জ্যোৎস্না

যখন কেউ ডেকে ওঠে, কষ্ট-কষ্ট গন্ধের ভেতর থেকে জেগে ওঠে মন। যেন জলমগ্ন জ্যোৎস্না। ভাবে, যাবো?  জ্যোৎস্নায় যে বড়ো লোভ আমার! জলেও বড়ো লোভ। জলে ভেসে থাকা যায় ওজনহীন। আমার দেহ-মনের সমস্ত ভার ধারণ করে জল আমাকে নির্ভার করে। জ্যোৎস্না ভাসায় মিঠে আলোয়। ওই আলোতে শুধুই লাবণ্য আর রহস্যময়তা। কষ্টগুলো রহস্যের আড়ালে স্বপ্নের মতো দেখায়। এক নিবিড় সুখ-সুখ অনুভব দেয়। তবে কি কষ্টই সুখ? 
সেই কোন শৈশবের পদ্মপুকুর আজও মনে জেগে আছে। জেগে আছে সেইবেলার কিছু না-পাওয়া, না-পারা। জেগে আছে মনে একটি আবছা ভোর। জেগে থাকে।  যেমন জেগে থাকে নির্ঘুম বয়সী চোখ। গভীর রাতেও থেকে-থেকে বলে ওঠে… কে যায়…কে যেন হাঁটে…কার যেন আওয়াজ পাওয়া যায়!
হাওয়া ভেসে বেড়ায় সর্বত্র। নিস্তব্ধতা হেঁটে বেড়ায় গভীর নিশীথে। ওদেরকেও ডাকে কেউ না-কেউ। কোনো ফুল ফোটার গল্প কিংবা ঝিনুকে একটি মুক্তোদানা খুঁজে পাওয়ার গল্প শোনানো হয়নি ভীষণ কোলাহলে। একটু যদি নিস্তব্ধ আঁধার নেমে আসে, যদি আসে ঘুম-ঘুম বাতাস, শোনানো যাবে ওই গল্পগুলো। একবারও কষ্টের গল্প শোনাবে না। শোনাবে না হতাশার সুর। ভারহীন হয়ে শুধু পাওয়ার গল্পে মশগুল করবে ওদেরকে। যে-কষ্টগুলো রহস্যের আড়ালে…

মন্দিরা ঘোষ

Image
ঈশ্বরকণা

চারপাশে ছড়ানো অজস্র ঈশ্বরকণা। আঁধার সরিয়ে রাতের নির্জন চুপিসার এঁকে দেয় ভোরের নামতায়। ঘুমভাঙা একটি জলশরীর একটু-একটু করে  আলোর ফুলকি হয়ে ওঠে। সূচনা থেকে খুলে যায় প্রত্যহের জানলা। মেঘের মতো আকস্মিক আয়ুর কাছে নত হবার পাঠ পাখিদের এক্তিয়ারে। চুক্তিবদ্ধ ক্লোরোফিল সবুজ পাতার ভবিষ্যৎ নিয়ে উড়ে যায় কোনো মেঘলা সংগ্রামে।
সরল বীজগণিতের ফর্মুলা ভেঙে কাচঘরে সাজিয়ে ফেলি আমাদের বেঁচে থাকা মেধা। মন ভালো না-থাকার অসুখে মেঘলা চাদরে টুকে রাখি রোদের খরচ।
জীবনের মৌখিক রসায়নে কারচুপির লাইন পেতে ছুটে যায় ভবিতব্যের ব্যানার। আমরা শুধুই পরিণামের ধুলো মেখে ব্যর্থ স্লোগানে বুঁদ হয়ে থাকি। অথচ ভোরের শিশিরও আলোর বাজনা হতে শেখে। শীতের রোদ মেখে হেঁটে যাওয়া দোতারাও জানে জীবন মানে ভেসে থাকা আলোর কুচি, বাউলমনের তারে জেগে ওঠা সবুজ পাখির মফস্বল। আমাদের চোখে আঁধারের হিজাব। আমরা ভুলে গেছি আলোর রঙ কীভাবে একটু-একটু  করে গাঢ় হতে-হতে দৈব হয়ে ওঠে।
ছবি : অ্যান্ড্রু ল্যাঙ্কাস্টার

নন্দনা বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
মায়া তবু মায়াবিনী নয়

কিছু-কিছু হিমের রাতে নিজের মুখ আয়নায় দেখলে মনে হয় একটা কঙ্কাল সদ্যপ্রসূতির মতো উবু হয়ে বসে আছে। গোপন পাপের মতো। উস্কোখুস্কো চুল, পোকায় কাটা অলঙ্ঘ্য পাখির ছানার মতো নির্মোক নির্বিকার। আমার মৃত্যু, আমার ক্রোধ, আমার যাবতীয় অব্যক্ত যাযাবর কথারা তখন জীবিত বা মৃত, সংকোচে জড়োসড়ো। ওদের কোনো জাত নেই। ওরা সার বেয়ে ছুঁয়ে যায় জলঙ্গির ঠোঁট। ওরা সুপেয়, পিপাসানিবৃত্তির বিপন্ন ভাণ্ড। হলুদ চিতার মতো একটা বোগেনভিলিয়া ওৎ পেতে বসে আছে শিকারের আশায়। বাতাসে তখন কুর্চিফুলের রাত। লাল-নীল দমকা কিছু হতচ্ছাড়া স্বপ্ন।এ অবশ্য কোনো নতুন কথা নয়।মনের ঘরে বাষ্প জমলে শাল-সেগুনের ছায়া ক্রমশ দীর্ঘ হয়। মিলিয়ে যায় খামখেয়ালের স্রোতে। গাছেরা আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে আসে। টান পড়ে শিকড়ে-শিকড়ে।চোখেমুখে লেগে থাকে আধখাওয়া শুক্লপঞ্চমীর চাঁদ। মাছরাঙা উড়ে যায় এদিক থেকে ওদিক। আকাশ তখন পাথরকুচি লাল। প্রহরীবেশে জ্বালিয়ে রাখে মশাল। কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠে যক্ষপূরীর মেঘ। হৃদি ঘিরে অক্ষরের তরল নির্যাস। ভালোবাসবে বলে রাস্তায় দাঁড়ায় একলা মানুষ। সমস্ত শরীর ঝাপসা হয়ে আসে। ব্যথায় অসাড়, নিঝুম দৃষ্টি। জল ঝরে তবু হৃদয় নীরব। আগুন জ্বা…

রাহুল ঘোষ

Image
চেনাশোনা ধূসর 

অথচ কোনো ভিড়ের ঢেউ উঠলো না! ওঠার তাড়াহুড়ো, নামার ব্যস্ততা, কিচ্ছু ঘটলো না। কোনো হাঁকডাক নেই। কাউকে ধাক্কা মেরে এগিয়ে যেতে চাইলো না কেউ। এইসব পরিচিত দৃশ্যের অবতারণা ছাড়াই একটা ট্রেন এল। বিশ্রাম নিল কিছুক্ষণ। এবং চলে গেল দক্ষিণের পথে। 
এইসব ট্রেন যাত্রীদের জন্য নয়। হলুদ বৃত্ত দিয়ে দাঁড়াবার জায়গা আঁকা হয়েছে শুধু। সেখানে মানুষ কোনোদিন এসে শৃঙ্খলা মেনে দাঁড়াবে? ভাবতে অবিশ্বাস্য লাগে! আপাতত চোখের জাগতিক সীমানা পর্যন্ত দীর্ঘ প্ল্যাটফর্মের হাওয়ায় একই ধুলো পাক খায়। এইখানে যেন কোনো জাগ্রত জনারণ্য ছিল। কোনো প্রাঞ্জল কোলাহল। মুখর হাসি-কান্না। আনন্দ ও বিষাদ। ওই ধুলো খুঁজে ফেরে সেইসব? ধুলোর বাকশক্তি নেই। শুধু ঘুরে-ফিরে আসা আছে। মরে যাওয়া আছে, হাওয়ায়-হাওয়ায়। 
আজকাল এখানে এলে, আমার লেখা পায়। অথবা লেখা এলে, আমি এখানে এসে বসি। এই নির্জনতায়। আজকাল এখানে আশ্চর্য কৈশোরের আলো ফিরে আসে। তখনও কাছাকাছি অজস্র ডালপালা, প্রকৃতির। তখনও অদূরে কোনো ফ্লাইওভার গড়ে উঠছে না। ওভারব্রিজদের প্রায় দিগন্তবিস্তৃত এক্সটেনশন নেই। এতগুলো রেললাইনের পাশাপাশি শুয়ে থাকা নেই। এত বেশি বৈদ্যুতিক বিচ্ছুরণ নেই। ডিজিটাল ডিসপ্…

মৌমিতা ঘোষ

Image
সামান্য

আজ কেন মন আনচান? আজ কেন এই বৃষ্টিভেজা রাতে উপচে উঠছে মনকেমন? চাঁদ উঠেছে কি? জানলা দিয়ে ভিজে বাতাস এসে ঘরে পাক খাচ্ছে। এরকম ভিজে-ভিজে বাতাসে, মন থেকেও কেমন সোঁদা গন্ধ বেরোয়। আজ নতুন করে প্রেমে পড়ছি তোমার। জীবন তো একটি অপূর্ণ গল্প-মাত্র। তার মাঝখানে কিছু রূপকথা বোনা হয়, শেষটা জানা যায় না। 
এরকমই গল্প তোমার আর আমার।
গল্পগুলো বৃষ্টির ফোঁটার মতো অসম্পূর্ণ, ঝরে পড়ার আগে অবধি তাতে টলটলে আশ্বাস রাখা। আর মাটি ছোঁয়া-মাত্র তার শেষ। তবু বৃষ্টিফোঁটার জন্য কত-না অপেক্ষা আমাদের! সবকিছু অসম্পূর্ণ থেকে যায়, চলে যাবার আগে কেই-বা সব শেষ করতে পেরেছে! শুধু শেষের শেষদিনটা অবধি ভালোবাসা যায়। আমি মন দিয়ে ভালোবাসা অনুশীলন করি।
হাসছো? ভাবছো, ভালোবাসা কি অনুশীলনের জিনিস? 
ঠিক যেমন আমি লেখা প্র্যাকটিস করি, যাতে রোজ কিছু না-কিছু ভাবনার উন্নতি হয়, ঠিক তেমনই বিষয়টা। রোজ ভাবি, কালকের থেকে আজ নিশ্চিত বেশি ভালোবাসি, মনে-মনে প্রাণপণ চেষ্টা করি সেটাকে অনুভব করতে; আর বিশ্বাস করো,পারি। এই যে একটা বৃষ্টির রাতে সোফায় আধশোয়া হয়ে তোমাকে মিস করছি, আর মনে-মনে প্রথম চুমুটির রোমাঞ্চ স্মৃতিতে আঁকছি; আর ভাবছি, কাল…

শৌভিক কুন্ডা

Image
আয়না

ডিম। আমজনতার প্রিয়, পুষ্টিসমৃদ্ধ, সহজলভ্য এবং ট্যাঁক সামলানো খাদ্যবস্তু। তবে ডিম আমার বিষয়বস্তু নয়। বরং, ডিম থেকে তৈরি হয় এমন একটি পদ এ-লেখায় বিবেচ্য। 
হ্যাঁ, ওমলেট। আমরা যদিও  জেনে এসেছি ছোটোবেলা থেকে, যে, বস্তুটির নাম নাকি মামলেট। পুরোনো অভ্যাস, তাই ইদানীংকার ইটারিগুলোতেও মুখ ফস্কে ওই মামলেটই বের হয়ে যায়। সার্ভিস বয়েরা কেউ-কেউ বুঝে ওঠেন, কেউ-কেউ বুঝতে চান না! তক্ষুনি অবশ্য সামলে নিয়ে ওমলেট বলে দিই।
তবে, আমার আলোচ্য নামমাহাত্ম্য নিয়েও নয়। রাঁধুনি নই, কিন্তু এই ওমলেট/মামলেট গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে সামান্য কথা তুলে ধরতে চাই। প্রথমেই দেখুন, এই খাদ্যবস্তুটি তৈরি করতে গেলে আপনাকে ত্রিস্তরীয় একটা সুরক্ষাবলয় পেরোতে হচ্ছে। সবার প্রথমে একটি নিরেট খোলা, যা খাদ্য হিসেবে গণ্য নয়। সাদা, লালচে, কমলাটে, বাদামি; বিভিন্ন রঙে তার বেড়ে ওঠা। ভাঙলেন, কারণ আপনার টার্গেট ভেতরটা। খোলাগুলো ঘর সাজাতে, বাচ্চাদের ওয়র্ক এডুকেশন ক্লাসে, শখের বাগানে সার হিসেবেও নাকি, কাজে আসে; তার বাইরে তেমন পরিচিতি নেই। অর্থাৎ, ভাঙছেন যখন, আপনার কাছে এই আস্তরণটি কোনো গুরুত্ব পাচ্ছে না। কিন্তু, খেয়াল রাখবেন জনাব, পলকা হলেও, আপনি যার স…

সমরেন্দ্র মণ্ডল

Image
নদীর ভিতর মায়া

একটা স্বপ্ন আমায় তাড়া করে। নদীর স্বপ্ন। নদীর ভিতর অসংখ্য মুখের রেখা। কখনও অবয়ব নিয়ে গড়ে ওঠে, কখনও অবয়ব ভেঙে ছড়িয়ে যায় নদীর তরঙ্গে। নদী তখন বর্ণিল। আমি ঠিক সেই সময় মহাপ্রভু সেতুর উপর দাঁড়িয়ে মন্দির-চূড়া দেখছি। হঠাৎ একটা কালো মেঘ আমার চারপাশে। মেঘ ক্রমশ হাত-পাওয়ালা ভীষণরকম দৈত্য হয়ে গেল। মৃদু হেসে আমাকে ছুঁয়ে দিয়ে, আবার মেঘ হয়ে ভেসে গেল। তখনই কে যেন কানের লতিতে মুখ রেখে বললো, ওর নাম কোভিড।
আমার ভিতরে তখন উত্তাপ পারদ চড়াচ্ছে। বুকের ভিতরে এক্কা-দোক্কা খেলছে কেউ। আমি ছুটতে শুরু করলাম। মহাপ্রভু সেতু ছেড়ে কালো পিচরাস্তা ধরে দৌড়াচ্ছি। দৌড়াতে-দৌড়াতে একটি বৃক্ষের কাছে সমর্পণ করলাম নিজেকে। বৃক্ষের কোটরে ছিল মায়া। সে স্পর্শ করলো আমায়। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।
ঘুম আমায় স্বপ্ন থেকে স্বপ্নে নিয়ে যায়। কোভিডের স্বপ্ন কখন মিলিয়ে গিয়ে আসে অন্য স্বপ্ন। মায়া। গাছের কোটরে সে ছড়িয়ে দেয় আঁচল। সেই আঁচলে শরীর জড়িয়ে নিই। হৃদয় বিস্তৃত হয়। হৃদপিণ্ড এগোতে থাকে মায়ার দিকে। গাভীচোখে সে আমার হৃৎপিণ্ডে চুমু দেয়। আঃ, কী যত্ন তার চুম্বনে! দীর্ঘ বছর অপেক্ষায় আছি এই একটুকরো …

অন্তরা দাঁ

Image
শরৎ-মেঘের মান্দাসে

আশ্বিনের ডাঁসা রোদ মেখে, গ্যালভানাইজড কাশের গোছা যখন চামর দোলাচ্ছে নদীর চরে, বনের ফাঁকে, এমনকি পিচ রাস্তার কালোর কন্ট্রাস্টে, তখনই এক শান্ত হয়ে আসা গোধূলির আলো যেন কানের কাছে ফিসফিস করে বলে 'মা আসছে '!সারাজীবনের একমাত্র আশ্রয়, যেখানে জীবন শূন্য হাতে ফেরায় না, তার নাম 'মা'। ভীষণ কেজো অথচ অন্তঃসারশূন্য দিনগুলো, চুপিচুপি রাংতা মুড়ে রাখি। ক্যালেন্ডারের সামনে দাঁড়িয়ে, পরপর চারটি লালরঙ দেওয়া চৌখুপি চিনে রেখেছিলাম পয়লা বোশেখের বিকালে হাতে পাওয়ার পরপরই, তাদের খুঁজি... এই তো! দুর্গাপুজো আম-বাঙালির জেনেটিক প্লেজার। ছেলেমেয়েদের নিয়ে মা আসবেন বাপের বাড়ি, আদর-যত্নের অভাব হতে দেওয়া যায় নাকি! আর সেই সুযোগে চিরকেলে হুজুগে বাঙালি, পুষিয়ে নেবে সম্বচ্ছরের আমোদ-আহ্লাদ, দুর্গাপুজো তারই আয়োজন। এসময় শিশির পড়ে, শারদসুন্দরীর নীল মেক-আপে গ্লিস্টার এফেক্ট! পাড়ায়-পাড়ায়, চেনা-অচেনা মন্দির, প্যাগোডার আদল যখন ফুটে উঠছে বাঁশ,কাপড় আরও হরেক কিসিমের কারিকুরিতে, সেই দিনগুলো বুকের ভেতর কীরকম আইসক্রিমের মতো গলে-গলে পড়ে। মহালয়ার ভোরে সেই যে "বাজলো তোমার আলো'র বেণু..."
সেই বাঁশ…

রঞ্জন চৌধুরী

Image
মায়া

সারারাত জেগে ছাইপাঁশ লিখি। লিখি পানাপুকুরের কথা। ডাহুক পাখিদের কথা। সারি-সারি বকেদের উড়ে যাওয়ার কথা। মেঘ-রোদ্দুরের কথা। আমার বাড়ি ঘিরে থাকা অনাদৃত শ্যাওলা আগাছাদের কথা...
আসলে এইসব লিখতে-লিখতে খুঁজে ফিরি তোকে 'মায়া'। জানি তুই ঘুম ভাঙানোর জন্য যে-মহৌষধ রেখে গেছিস আমার জন্য; তা আমি পান করতে-করতে, বাজারের ভিড় ঠেলে এগোতে-এগোতে দেখি, সাক্ষাৎ দেবীর মতো তুই দাঁড়িয়ে আছিস সেখানেও। মুঠো-মুঠো অন্ধকারের ভেতর তোকে দেখি। মোমপোড়া গন্ধে তোকে দেখি...
দেখি তুই আমাকে বশীভূত করে দ্রুতগামী অশ্বের মতো নিয়ে চলেছিস কোনো এক অজানা নিরুদ্দেশে। যেখান থেকে দ্রবীভূত না-হলে ফেরা যায় না। এ যে মোহ!
তুই তো জানিস সঙ্গকে আমার কোনো ভয় নেই। যত ভয় ওই নিঃসঙ্গতাকে নিয়ে। এসব তুই জানিস 'মায়া'; আর জানিস বলেই এও জানিস, কোথায় নিয়ে গেলে আমি তলিয়ে যেতে পারি আরও কোনো বৃহত্তর মায়ায়। 
ছবি : নিক ফেউইংস

অনিন্দ্য দত্ত

Image
ছায়াহারা

একজন সাধারণ মানুষ একদিন ভোরবেলা উঠে, গতরাতের বাসি রুটি-তরকারি গরম করে খেয়ে ফার্স্ট বাস ধরে স্বরূপনগর গ্রামে চলে গেল। তারপর সেখানেই সে রয়ে গেল পাকাপাকিভাবে। করোগেটের চাল দেওয়া একঘরের এক সাতপুরোনো বাড়ি হলো তার আস্তানা। কার কাছ থেকে যে এই বাড়ি ভাড়া নিল, বা মাসে-মাসে কাকেই-বা মানিঅর্ডার করে সে টাকা পাঠায়, কে-বা দেখে তায়! গ্রামের সবাই থাকে আপন ধান্দায়। তিনমাস হয়ে গেল, স্বরূপনগর ইস্কুলের ইতিহাসের মাস্টারের চাকরি তার। ছাত্রদের সে ঠিকঠাক শেখায় সমুদ্রগুপ্ত, আকবর বাদশা আর রামমোহনের বীরগাথা। 
দিনান্তে ঘরে ফিরে কিন্তু পোষা সারমেয় পল্টু আর তার হাত থেকে বাদাম খাওয়া প্রায়-পোষা কাঠবেড়ালি মুল্লাবক্সকে শোনায় উল্টোপাল্টা কথা ও কাহিনি। অম্লানবদনে বলে, আনোয়ার পাশা কেটেছিল রামেসিসের মাথা; সন্ত পিটার তাঁর বাহন সিংহে চড়ে রোম অভিযান করেছিলেন; গ্যালিলিও নাকি লুকিয়ে ডাংগুলি খেলতেন; আর বলে, বিলজেবাব কেমন করে উড়ে গেল ভানুমতীর দেশে।  জনতা স্টোভে রান্না করে সে, তার আর পল্টুর ভাত, ডাল, আলু-কুমড়োর ছক্কা, নিম-বেগুন। মাঝেমাঝেই গোলামের দোকান থেকে  ছাঁট মাংস নিয়ে আসে। পল্টুর সেদিন মহাভোজ।
সবই চলছিল ঠিকঠাক। পঞ্চমীর চ…

মুক্তধারা, শারদ ১৪২৭ | ২০২০

Image
প্রসঙ্গত 
দেখতে-দেখতে ছয় মাস! একটা বার্ষিক সময়কালের অর্ধেক। এই ২০২০ সংখ্যক বিষ-বিষ বছরটির কথা ধরলে, তার পৌনে-এক অংশ কেটে গেল। তবুও অদৃশ্য জীবাণুর আক্রমণ থেকে পাওয়া গেল না নিশ্চিত নিরাপত্তার খোঁজ! যাবতীয় সাবধানতা নিয়ে যেভাবে বেঁচে থাকা মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে এই কালখণ্ডে, তাকে আর যাই হোক, 'বেঁচে থাকা' বলে না! মানুষ এখনও প্রকৃতির কাছে কত ভঙ্গুর, সেই চিন্তার খোরাক এই মহামারীর আবহে তর্কের তুফান তুলতেই পারে। কিন্তু আমরা তো দেখতেই পাচ্ছি, বাঙালির সবচেয়ে বড়ো উৎসবের দ্বারপ্রান্তে এসেও, মানুষ ঠিক ততটাই অনিরাপত্তা ও অনিশ্চয়তায়। অবশ্য জীবন ও যাপনের নিশ্চয়তা আর কবেই-বা সবাইকে আশ্বস্ত করতে পেরেছে! 
১৪২৭-এর দুর্গাপূজাটি বোধহয় বঙ্গজীবনে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি নিয়ে আসবে! যা আমরা কখনও দেখিনি, যা আমরা কখনও ভাবিনি, তেমনভাবে মাতৃশক্তির আরাধনায় বাধ্য হবে বাঙালি। এই অভূতপূর্ব আবহেও মুক্তধারা  আন্তরিক আয়োজন নিয়ে উপস্থিত থাকছে এই দশম সংখ্যায়, যা তার দ্বিতীয় অনলাইন প্রকাশ। এই সংখ্যাটি ১৮টি কবিতা ও একটি কবিতা-বিষয়ক গদ্যে সমৃদ্ধ। প্রতিবারের মতো এবারের সংখ্যাটিও যথেষ্ট পাঠকপ্রিয়তা পাবে, এই আমাদের আশা।…

সোনালী ঘোষ

Image
কবিতার মতোই

অনেক শীত লেখা হয়ে গেছে আগে, ট্রামের মতো ঘরঘর করে ধীরে-ধীরে গোটা কবিতার খাতায়, ছেয়েছে অভিনয়; এখন এক-দু'পশলা বৃষ্টি এলে মন্দ হয় না।  তুমি হন‍্যে হয়ে যাকে খুঁজছ সে নিখুঁত নয়,  তার গায়েও উগ্ৰ রাজনীতির গন্ধ আছে  শীত পড়লে সেও খুঁজে নেয় একটা উত্তাপ,  রাতের নরম তারাদের কাছ থেকে চেয়ে নেয়, বেঁচে থাকার স্বপ্ন...  এইসব ব‍্যক্তিগত ক্ষত শুঁকতে-শুঁকতে  ঘ্রাণশক্তিই চলে যাওয়ার উপক্রম,  এগুলো আড়াল করে কি আর যাতায়াত করা যায়?


ছবি : টড ডিয়েমার

সম্পা পাল

Image
আমরা আজও করোনেশন

থেমে থাকার কোনো মানে হলো না তবু বৃষ্টিনামা আকাশে আজ নীল রঙের দাপট
সেগুন কাঠের খাটে সাদা চাদরেও স্বপ্নটা নীল হয়ে যায়
তুমি-আমি ভাবতে থাকি মাঝখান দিয়ে চলে যায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম একদিন বদলে যায় আবহসঙ্গীত
আমাদের বয়স বাড়েনি আর আমরা আজও করোনেশন হয়ে দাঁড়িয়ে...


ছবি : ডেভিড মারকিউ

বিজয় ঘোষ

Image
মেঘেদের কথা

চলুন একবার শিলঙে বেড়িয়ে আসি। শিলঙের গাছে-গাছে মেঘ ঝুলে আছে। মায়ের কান্নার মতো জল গড়িয়ে পড়ে মেঘের চোখে। সেখানে নেই রেল ইঞ্জিনের জান্তব উল্লাস। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কুয়াশারা আপনার ঠোঁট ছুঁয়ে যাবে। চলুন সেই পবিত্র নির্জনে যাই। পায়ে-পায়ে ঘুরে বেড়াব লাবাং লাইমুখরা ব্রুকলিনের সবুজ ঘাসে। এইসব ঘাসে ঘাসে পায়ের চিহ্ন পড়ে আছে রবি ঠাকুর, রাণুর, আমার প্রাক্তন হয়ে যাওয়া প্রেমিকার। মেঘে-মেঘে আঁকা হয়ে আছে বিগত বসন্তের ছবি। এই শরতে পাঠাবো না কোনো চিঠি বিগত প্রেমিকার ঠিকানায়।
চলুন ঘুরে আসি মেঘের আড়ালে থাকা মেঘের দেশে।


ছবি : জুয়ান ক্রুসো

মধুপর্ণা রায়

Image
সেই যন্ত্রণার রঙটি নীল

একটি কোনো চমৎকার বিস্ময় না-থাকলে কবি অথবা কবিতার পাঠক হওয়া মোটেই যায় না, এমন একটা জানা আমার ভেতরে প্রায় তখন থেকেই নিজে-নিজে রোপণ করে বসে রইলাম, যখন আমার পড়ার বইয়ের তলে কবিতার বই। বসে থাকতাম জানলা ঘেঁষে। রাতের পারাপার ভোরে পৌঁছে যাবার সম্পূর্ণ ইতিহাস জেনে নেবো বলে। রাতের সঙ্গে-সঙ্গে আমিও একটা অনির্দিষ্ট পাড়ি জমাতাম। আমি নিজেই এক কাব্য হয়ে উঠতাম। আমার রক্তপ্রবাহ আমাকে সেরকমই কিছুর আভাস দিত। পাঁচটা ইন্দ্রিয় অতিক্রম করে আমিও ভোরে পৌঁছতাম। অথবা আমি নিজেই হয়ে থাকতাম এক-একটা ভোরবেলা। অথচ তার পরের সকাল আর আমার ভালো লাগতো না। একঘেয়ে, বিবর্ণ আর গৃ্হস্থ গোছের মনে হতো।
এতসব ক্রিয়া-প্রক্রিয়াকে কোনো আলোচনাচক্রেই আমি কখনও আনতে পারিনি। আমি তাই কবিতার গূঢ় বেদনার মতো একা এবং নিশ্চুপ থেকে গেলাম। আমার সমস্ত সত্তা একজন কবিকে দেখবে বলে জানলার গ্রিলে অনন্ত দ্বিখণ্ডিত  রইল। যে-যন্ত্রণা কখনও শোষণ করেনি নিজে, অথবা কোনো শোষণের ফল হিসেবে যা আসেনি  আমার মস্তিষ্ক এবং হৃদয়ে...সেই যন্ত্রণার রঙটি নীল...এমনটাই দেখতে লাগলাম আমি। মহৎ সে যন্ত্রণার উৎসে কে আছে, কী আছে...আমার শরীর-মন দিনরাত্রি মন্থন কর…

তানিয়া ব্যানার্জি

Image
শোক

অ-সুখ হলে আমি মূক হয়ে যাই তুমি তো জানোই! কথাঘরে কুলুপ এঁটে ধর্মঘট চালায় ওরা। পরিবর্তে উৎসব চলে অন্তরমহলে আমার সবটুকু আমাদের নিয়ে।  তুমি বলো এ ভুল, আমি যদি বলি কুল!  নতুন করে গোড়াপত্তনের আশায়... তবে কী জানো, নির্বাক যারা তাদেরও তো শোক আছে!  এই যে ছুঁয়েও না-ছোঁয়া, চেয়েও না-চাওয়া ক্ষুধার্ত ইচ্ছেদের হা-পিত্তেশ!  এ বড়ো দীর্ঘ ...অথবা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর।


ছবি : ক্রিস্তিনা ত্রিপকোভিচ

মোনালিসা রেহমান

Image
ঝাউতলা লেনে 

মেঘের অন্তরে মলিন হলো বেলা অধরা ঠোঁটে-ঠোঁটে আগুন নিকোটিন  এ-ডাল ওইডাল কখন শেষ করে পেরিয়ে যায় সাঁকো শব্দে-শব্দেই... রাত্রি ভোর হয়ে আসে অলক্ষিত সিক্ত কটিদেশে সুপ্ত ইচ্ছের  সন্নিবেশে কই প্লাবন এল আর... লজ্জা-অবনত রক্তশৃঙ্গার  ডানার গন্ধেই সাগর উত্তাল ভরাট হবে বুঝি এ-ঝাউতলা লেন?


ছবি : রিকার্ডো মিয়ন

তুহিনকুমার চন্দ

Image
সবাই কিছু না-কিছু

কেউ বলেন কবিতা লিখুন আবার কেউ-কেউ ঠোঁট উল্টে ইশারা করেন না মশাই কবিতা-টবিতা বুঝি না বাপু বরং গল্প-টল্প লিখে যান,নাম হবে। আমার এক ছাত্র বলেছিল স্যার বরং প্রবন্ধ...
এমনিভাবে সবাই কিছু না-কিছু বলেছিলেন সেদিনের সান্ধ্য-আসরে।
রাতে বাড়ি ফিরতেই মল্লিকা আমায় জড়িয়ে ধরে, ফিসফিস করে বলেছিল, ---জানো! বোধহয় মেয়ে হবে, আর নাম হবে কবিতা।

ছবি : অভি আগরওয়াল

যাদব চৌধুরী

Image
ঢেউ

মাঠে জেগে ওঠে জীবনের প্রতিশ্রুতি হলুদ সোহাগ খেলে যায় বাতাস দোলায় নবান্নের গন্ধ মেখে গ্রাম-শহর বন্ধুতায় কৃষকবাজারে ভোরের কুয়াশা মাখে।
আঁচলঝোলা শাড়ি মুছে দেয় ঘাম লালপাড় স্নেহে কষ্টের বোঝা কমে মাটির উঠোন হেঁটে হাত ধরে স্বর্গ ছোঁয়া কণ্ঠে উচ্চারিত কূলদেবতার অভয়মন্ত্র।

আঁচল মোছে ঘাম, আঘাত, রক্ত ইতিহাস জুড়ে যুদ্ধ, শান্তির পাঠ দু'হাতে বিষাদ নিয়ে মাঠে হাঁটে রোদ  ভালোবাসা বুকে ঢেউ খেলা বাতাস দোলায়।


ছবি : অ্যান সেভচেঙ্কো

নীহার জয়ধর

Image
তারপর পথ শেষ হয়ে গেল

তুই ছিলি, পথ-পা-হাঁটা ছিল সানন্দ মিছিলে তুইপানা মুখ উপমায়, দুইহাত স্বেচ্ছামৃত‍্যুর শ্লোগানে 
ছাড়াহাতে মুক্তি শিশুপেট, তুই পড়শি ভাতের ঘ্রাণ  চোখ দরিদ্রপিতা, হৃদয় খড়-মাটির পোতায় অভুক্ত সন্তান 
তর্জনীতে কক্ষ আনত, অনামিকা শিশিরের আলোকীয় ছল আহ্নিক কৃষ্ণপক্ষে গ্রহণলোলুপ, বার্ষিকে মল-মধ‍্যমা টলমল
গ্রাফাইট আল্পনা-সম্পাদ‍্যে তোর শরীর তুখোড় আসরে গ্রহণ ও মায়ায় তুই দারুণ ইরেজার
আসাতে যে রোদ ছিল, সময়ও কি ছিল সেই অনুগত মুঠে  যে-গল্প ব‍্যতিহারী শব্দে জমেছিল, মুড়িয়েছে ধুয়ে যাওয়া পথে
শীত বীজ ছড়িয়েছ ফেলে যাওয়া পথে-ভুঁয়ে, বেড়ায় সীমান্ত উজ্জ্বল তারপর পথ শেষ হয়ে গেল, উঠোন হিসাব করে হেঁটে আসা অর্জিত ঋণ ।

ছবি : জোহানেস প্লেনিও

তাপসকিরণ রায়

Image
বৃক্ষপুরুষ

স্বাবলম্বী একটি বৃক্ষ বুঝি রাতের কাছে নতজানু হয়।  সেও আবেশিত হয় আতুর জ্যোৎস্নায়।  প্রেম বুঝি তাকেও ছুঁয়ে যায়, পাখির ছোঁয়ায় সেও আপ্লুত হয়।  নীরবতার মাঝে কখনও তার হৃদয়েও শাব্দিক অনুরণন ঘটে।  যেমনটি একটি মৎস্যকন্যার খোঁজে সারাটা জীবন কাটিয়ে দিল ধীবর।  তার মাঝেও প্রেম-ভালবাসার টুকরো-টুকরো সুপ্তি।  চলতে-চলতে কতগুলি জীবন শুকিয়ে বৃদ্ধ হয়ে গেল।  দেখো সেই বৃক্ষপুরুষটি সূর্যালোকের স্পষ্টতা ধরে নেয়।  সেই বৃক্ষমনও আন্দোলিত হয়---সে বৃক্ষও সহমর্মিতায় ভোগে, তার আশপাশ জুড়ে বিরহী শ্বাসবাতাস হাঁপিয়ে ওঠে।  তারপর দিনের আলোয় সে টানটান হয়, আপন চরিত্রে  কঠিন-কঠোর হয়ে ওঠে, স্বাবলম্বী হয়ে দিনভর সে দাঁড়িয়ে থাকে। 


ছবি : মাহির উইসাল

পায়েল দেব

Image
প্রায়শ্চিত্ত 
প্রায়ই একদল ব্রাহ্মণ ঝকঝকে বেসিন থেকে  ভাতের টুকরো খুঁজে খান। লাইন বেঁধে অনেক দূর থেকে আসেন।  আলিঙ্গনে-আলিঙ্গনে পথ প্রেমময় হয়ে ওঠে।  এমন সারিবদ্ধ আগমন আমি জল ঢেলে ভেস্তে দিই। ব্রাহ্মণদের উচ্ছিষ্ট ভোজনে পাপ লাগে।
আমরা তো আর পিঁপড়ের মতো অবুঝ নই!


ছবি : কেভিন উল্ফ

শর্মিষ্ঠা ঘোষ

Image
এসওএস
ধরো কিছু নেই বলবার মতো ধরো কিছু নেই করবার ধরো তুমি খুব ব্যস্ত বিকেলে ভোকাট্টা ঘুড়ি জেরবার তখন কি ভাবো পালানোর কথা তখন কি চাও দেখতে সেই আকাশের চেনা তারাগুলো পারে কি পারেনি চিনতে এত হইচই এত ধুমধাম এত আমি-তুমি রাতদিন তাও একা লাগা তাও চুপচাপ তারই আড়ালে থাকা লীন ব্যালেন্স আসলে বড়ো পলিটিক্স কারেক্ট সকলে ভাবছে ভালোই আসলে পাল্টে যাওয়ারা সময়ও পাল্টে যাচ্ছে আমাদের যত স্বর্গ-নরক সবই আমাদের ভাবনার সুধীজন সখা এসওএস এল খোরাক জরুরি জাবনার


ছবি : সাশা ফ্রিমাইন্ড

সোমা দাস

Image
অভিমান

ঈশ্বরের ভোগে মিশিয়ে দাও মদ মাতাল হয়ে ঈশ্বরের চরণও টলমল করতে-করতে লুটিয়ে পড়ুক বিস্মৃত হোক ফিরতি পথের মানচিত্র!


ছবি : অ্যালেক ডগলাস 

মানস চক্রবর্ত্তী

Image
শরৎ, ও শরৎ 

আওতা থেকে ঝুপ করে রোদে নাবতে-নাবতে কাকের সঙ্গে নেবে এল দুকুর 
একটা বেগুনি শাড়ি ততক্ষণে পতাকার মতো উড়ে-উড়ে পাক খাচ্ছে দড়িতে  

আমরা রাত অব্দি পাখিপক্কোদের পালক কুড়িয়ে আদ্দিকালের বদ্দিবুড়ির কাছে জমা করবো শরৎভোর,  আর সে অবিকল দোয়েলের ভাষায় গেয়ে উঠবে,  ফিঙের মতো নেচে উঠবে, সঙ্গমক্লান্ত চড়ুইটির মতো  চোখ উল্টে ঘুম পাড়াবে নিজের কাঁধে রাখা মাথাটিকে  আর নিজে দুলবে যেন কলাবউ
এক্কাদোক্কা খেলতে-খেলতে আমরা বেখেয়ালে ঘুমিয়ে পড়ি  বাকি ঘরগুলো টপকানো হয় না  
গাছের গোড়ায় হুটোপুটি করে অন্ধকার 
কাক গুলে যায় যম-কালোতে 


ছবি : দানিয়েল পাসকোয়া

অঞ্জন আচার্য

Image
প্রতিশোধ 

পৃথিবী ঘুমিয়ে আছে কিংবা জেগে নেই পৃথিবী আমরা ক'জন ঘুমিয়ে আছি, জেগে-জেগে কতকাল
পৃথিবী জেগে আছে কিংবা ঘুম নেই পৃথিবীর আমরা ক'জন জেগে আছি, না-জাগার ভান করে
গভীর অসুখে ক্লান্ত সব ভূমি ও জলাশয় শরীরে বেঁধেছে বাসা জীবাণুর দল
ক্রমশ দেহ থেকে দেহে, মন থেকে মননে খুটে খাচ্ছে ক্রমাগত — অনন্ত ক্ষুধা তার
পৃথিবীর জেগে ওঠা বাকি অথবা বকেয়া রয়ে গেছে ঘুমের রেশ আমরা জেগে-জেগে ঘুমাই; ঘুমিয়ে জেগে থাকি বারোমাস
এ-যেন শোধবোধ খেলা, নয়তো সময় হয়েছে প্রতিশোধ নেবার


ছবি : এরিক ওয়ার্ড

প্রনব রুদ্র

Image
সম্পর্ক

টক সম্পর্কে, নিমফলের ঢেকুর মাসকাবারি ভেড়াযাপন শতাব্দী পেরিয়েও হিমযুগ আঃ জীবন হেমলক চুমুক…
সেলাই করে রাখা বন্ধনগুলো সুযোগসন্ধানী শেয়াল মতো মিলেমিশে আগুনের পাশে মতলবের আশায় নামতা পড়ে
এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি টের পাই আসলি রঙ গোপন রাখে একই চাঁদে যেমন অমাবস্যা-জ্যােৎস্না থাকে বুঝি, সম্পর্ক আমৃত্যু সুখ-অসুখের চুমুক…


ছবি : জেরেমি বিশপ


অনির্বাণ ঘোষ

Image
নদী

নদী কোনদিকে বইবে? কিছুই জানি না--- আমাদের নেই কোনো পতাকা, নেই কোনো কম্পাস চুপচাপ মাঝদরিয়ায় বসে জল গুনছি আনমনে... একটা পাখি ডেকে যায়, আলোতে তাকে দেখা যায় না শুধু ডাক শুনে-শুনে এগিয়ে চলেছি আর খুঁজে যাচ্ছি পিপাসার জন্মস্থান। 'এইখানেই  তো তোমার কবর হয়েছিল?' নিরুত্তর মাঝি মিলিয়ে যায়...নদীর স্রোতের প্রায়।


ছবি : জোশুয়া আর্ল

গোবিন্দ তালুকদার

Image
চিঠি  
বহুদিন দেখা নেই, কথাদেরও বসতি গোপনে তবুও তো লিখতে পারো একখানা চিঠি, খামে!
চিঠি লেখাটা তো ভুলেই গেছি সকলে, আমিও সুন্দর লিপিতে ঠিক আগের মতো! ইচ্ছে করে। আমিও যে লিখবো উপায় নেই, নূতন ঠিকানা অজানার স্রোতে ভাসছ কতদিন, দেখি না!
মোবাইলের নোটপ্যাডে তো লিখি আজকাল খাতায় পড়ে থাকে কোরাকাগজ শূন্যচোখে লিখতে গেলেও একরাশ আলস্য বাসা বাঁধে। নাঃ, এবার কাগজ-কলমেই দিতে হবে মনটা।
কত লেখা  হারিয়ে গেছে যান্ত্রিক কোলাহলে ঝরনাকলমে কাটাবো প্রহর বর্ণলিপির মহলে।


ছবি : ডেবি হাডসন

নিশিকান্ত রায়

Image
ফাঁকা 

উড়তে গিয়ে হয়নি কিছুই বলা  আকাশ এখন মরুভূমির রোদ ঢেউয়ের সাগর বুকের তলে নাচে  তোমার-আমার সঙ্গে চলার বোধ। 
ফুলের শিশির শুকনো চুমু ঘষে  পাখির ঠোঁটে মেঘের পালক ভাসে  আলোর দেহে আঁধার ঘুমোয়-জাগে  ক্লান্ত ধুলোয় চাঁদের পাখি আসে। 
দেবলোকের আগুন ফুলের রঙে মাতাল ঢেউয়ের কাছেই বসে থাকা  মানুষ-ফুলের বুনো জমির ধারে  ইন্দ্রপুরীর নৃত্যশালা সব হয়ে যায় ফাঁকা। 


ছবি : কেনরিক মিলস

মুক্তধারা | জুলাই ২০২০

Image
প্রসঙ্গত
করোনা-বিপর্যয় তথা লকডাউনের এই ধারাবাহিক আবহে আমাদের ১৯ বছরের পত্রিকা ভাষা ৩৩ তম সংখ্যাটি নিয়ে প্রথমবার অনলাইন সংখ্যা হয়ে এসেছিল গত জুন মাসে। ঠিক একমাসের মধ্যেই যে আবার আরেকটি অনলাইন সংখ্যা নিয়ে আসতে হলো, তার কারণ শুধু এই নয় যে, মুক্তধারা নতুন সংখ্যার সময়ও হয়ে গিয়েছে। তার কারণ আরও বেশি করে এই যে, অবরুদ্ধ জীবনকালের এই পর্বে অনিশ্চিত আগামীর মুুুখোমুখি দাঁড়ানোর জন্য ভালোবাসার জিনিসগুলোই আমাদের সামান্য রসদ হতে পারে।
মুক্তধারা নবীন পত্রিকা হলেও, দেখতে-দেখতে তার তিন বছর পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে এই শ্রাবণে। তবে ভাষা-র দীর্ঘ অভিজ্ঞতা মুক্তধারা-র জন্য সবসময়েই পাথেয় হয়ে থেকেছে। ঠিক যেমন, এবার ভাষা-র অনলাইন সংখ্যা করে পাঠকের কাছে প্রচুর সদর্থক অভিমত পেয়েই মুক্তধারা-কেও অনলাইন করে তোলা গেল। ২০১৭-র বাইশে শ্রাবণ, রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণদিবসে বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় মুক্তধারা-র প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছিল কলিকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণাকেন্দ্রে অল্প কয়েকজনের উপস্থিতিতে, একটি ঘরোয়া আড্ডায়; লাইব্রেরির প্রাণপুরুষ সন্দীপ দত্তের হাত দিয়ে। আজ যখন এই সংখ্যার সম্পাদকীয় লিখছি, তখন এই শ্রাবণের দুপুরেও তে…

এবাদুল হক

Image
এবাদুল হক অনুভবের আগুন 
দিনশেষে যদি দ্যাখো স্বপ্নের ভেতর রক্তপাত  চিলেকোঠায় সূর্য অস্ত গেল অথচ রাত্রির মুখ ঢাকা  তাহলে নিশ্চিত জেনো তোমাকে খুঁজছে কেউ  অথবা প্রতীক্ষারত তুমি, বসে আছো স্মৃতির জঙ্গলে  ক্রমশ তোমার মধ্যে জন্ম নিচ্ছে, ফিরে আসছে অনুভবে  স্পর্শের গভীর থেকে উঠে আসছে আরেক মানুষ।
যদিও অন্ধকারে পা রাখার জায়গা খুঁজে-খুঁজে  পায়ের কথাই ভুলে গেছ, ভুলে গেছ ক্লান্তি ও হতাশা  রাত্রির সঙ্গমরত নদী ঢেলে দিচ্ছে বিষজল  চতুর্দিকে সময়ের ভুক্তাবশেষ, মাকড়সার মতো মৃত্যুসুখ।
দিনশেষে যদি দ্যাখো করোটির ভেতর সূর্য ডুবছে  অদৃশ্য শিশির-হিমে নিভে যাচ্ছে চিরব্রতী আগুন  প্রার্থনা করো, বুকে যে সামান্য তাপ ছিল  প্রলয় চিৎকারেও তার কোনো গান বন্ধ থাকেনি।

চন্দ্রলেখা মহান্তী

Image
চন্দ্রলেখা মহান্তী জোয়ার
বেলাভূমি উত্তাল তৃতীয়পুরুষ কথায়  অথচ ছুঁয়ে থাকা বাতাস  বয়ে যাওয়ার আগে  আমরা শুধু এঁকেছিলাম সমুদ্র  আকণ্ঠ ডুবন্ত লবণাক্ততা জাহাজডুবির পরে আঁকড়ে ধরেছিলাম হাতের স্পন্দনে মাস্তুল
এভাবেই হারানো, লেখা থাকে প্রস্থান তবুও কি উপর্যুপরি ঢেউ ভেঙে জোয়ারে ফিরে আসা যেমনভাবে শ্রাবণ চলে গেলেও অত্যাচারী বর্ষাপ্রেমিকের সিক্ততা রয়ে যায়

ইন্দ্রনীল রায়

Image
ইন্দ্রনীল রায় হলুদ পাতায় লেখা তারপর সেও এল ভিড়ের ভেতরে   অপলক দর্পণ সদৃশ চোখে আটকে গেল স্বপ্নপোড়া চোখ শ্রাবণ সজল মেঘ   চোখে তার বিদ্যুতের ভাষা ভালোই তো, নব্যকথা   হলুদ পাতায় লেখা হোক!
ছলোছলো জলকথা জড়ানো সে মেঘের আঁচলে তবে কি এ-শ্রাবণে   নামাতে পারি মেঘভার সূর্যোদয়ের আগে যেই কথা লিখেছি বাদলে সব স্বপ্ন-অসম্ভব   হবে আজ মেঘমল্লার!
অসূর্যম্পশ্যা নদী যদি তার বহতা লুকায় কোনোদিন বালি খুঁড়ে তার জল তুলে আনবো না এসব জলজ কথা লেখা হবে গোপন আখরে ভীষণ আড়ালে    ধীরে   জমে উঠবে   গূঢ় সম্ভাবনা।

কাকলি দাস

Image
কাকলি দাস কথা কেউ রাখে না
অনেকগুলো শব্দ, ক্রমাগত আছড়ে পড়ছে গরাদ ভেঙে ওরা যাচ্ছে ফিরে কথারা কেন আসে বারবার স্বপ্ন নিয়ে নেশাতুর চোখ, হাকুস ভিজে থরথর কাঁপে অঘোষিত রঙহীন বরষায় রেস্তোরাঁর আড্ডায় ডুবে যাবো একদিন তুমিও তো বলেছিলে, তাই না?  সানগ্লাসে ঢাকা মুখ,আর যায় না চেনা  সময়ের সরণি বেয়ে হারিয়ে যায় কথা দেওয়া যত কথারা... রূপকথার মেঘ আবছা হতে-হতে হারিয়ে যায় স্বপ্নের ক্যানভাস, ভরে ওঠে কার্বনে

জয়া ঘটক

Image
জয়া ঘটক স্তব্ধতা 
যতটা কাছে আসলে
নিঃশ্বাস গহিন হবে,  ততটা কাছে এসো। বুঝে নেবে, ক্ষয়হীন এক-একটি বিন্দু। বহুদিন আগেকার  জল, ভিজিয়ে দিতে পারে এখনও তোমায়।
জেনে নিতে হবে ইচ্ছের রঙগুলোকে।
রাত্রির আবরণ খুলে গেলে ধাবমান ব্যাধ ভাঙবে অদৃশ্য সাঁকোটা।  তারপর ভাসান হবে...
প্রেতশিলা থেকে নেমে আসবে জলের গোপন ঘাতক।তারপর আর কোথাও যাবার নেই। 

শুধু থাকবে এক বিষণ্ণতা বিদায়। 

জয় সিংহ

Image
জয় সিংহ স্বপ্ন, মেঘ

মাঝরাতে ভেঙে যায় স্বপ্ন
সুনীরবতা ভাঙে যত স্মৃতিকথা, ব্যথা
দুঃসহ জমে থাকা অন্ধকার মেঘ হয়ে উড়ে যেতে থাকে
আত্মকথা পিঠে বয়ে নিয়ে চলে মেঘ দূর থেকে দূরান্তের দিকে পর্যটকের অন্তহীন হাঁটার মতো
মেঘ যেন বৃষ্টিরই রূপান্তর প্রবল বন্যায় যেমন ভাসায় ঘরবাড়ি কে জানতো আমার স্বপ্ন আমাকে দেখাবে,
মাঝরাতে উদ্যত তরবারি !

দিশা চট্টোপাধ্যায়

Image
দিশা চট্টোপাধ্যায়  ক্রমশ জন্ম থেকে অভিমানী শরীর এগিয়ে আসে  মাটি হবে বলে। আলো ক্রমশ উজ্জ্বল  স্মৃতি ক্রমশই  মলিন--- মাটি পুড়তে-পুড়তে ইট... বয়স এগোতে-এগোতে পাথর! পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কেঁপে ওঠে ভিত চারিদিক শব্দহীন গহিন পরাজয়ে শরীর সরে-সরে আসে মাটির কাছাকাছি।

নবনীতা সেন

Image
নবনীতা সেন তৃতীয় নয়ন
যে আমায় উপেক্ষায় দূরে ঠেলে দেয় 
আমি শপথ করেছিলাম   আমৃত্যু তাকে ভালোবেসে যাবো। যে আমায় অবজ্ঞায় প্রত্যাখ্যান করে, কথা দিয়েছিলাম তার শরীরে একেঁ দেবো একশো-আটটা উল্কি ভালোবাসার। যে আমার অস্তিত্বকে অগ্রাহ্য করে, শুধু   তার নিরাভরণ রূপ দেখার কামনা-বাসনায়  তাকে আমি একবার দেখাতে চেয়েছিলাম নাভিপদ্ম  থেকে উঠে আসা সে চোখ-ঝলসানো আলোর জ্যোতি।  তাকে আমি ভস্মীভূত করতে চেয়েছিলাম, আমার তৃতীয় নয়নে।

নীহার জয়ধর

Image
নীহার জয়ধর  অ-প্রাকৃত
তাহলে দু পা ফাঁকা করে দাও সমুদ্রে  উষ্ণস্রোত ডাকো কামনায় অহংকারী টেথিসও হতে পারো  পর্বতমালা যদি ফুঁড়ে ওঠে বুকে সম্ভব হলে কিছু লাভার স্রোত উগরে দিও।
তারপর আমাকে আফ্রিকা করে  যাতায়াত পথ মুছে দিও  আমি প্রাকৃতিক দূরত্বে চলে যাবো 
তুমি উদ্ভিন্ন এশিয়া হবে, দেখবো না, বহু ইউরোপ তোমাতে উপগত হবে, অগ্নিমান্দ‍্য স্বাদ জিভে তখন হৃদয়ে আসবে না কোনো খাণ্ডব, দহনকামনায়।

বিশ্বজিৎ মণ্ডল

Image
বিশ্বজিৎ মণ্ডল
স্বভাবী অন্ধকার

১. নির্নিমেষ দেখেছি-----পৃষ্ঠাজাত প্রথম আদম...

অভাব বলে কিছু তো কিছু ছিল না, সেইসব                                     পোশাকি এদন উদ্যানে
তবুও অবিশ্বাস্য খেলে, নিষিদ্ধ ফল... নগ্নতার মুগ্ধতায় আজও খোঁজে-----প্রিয় সঙ্গিনী-আঁকা, অদৃশ্য উপবন
এভাবেই হু-হু বেড়ে গেছে স্বভাবী অন্ধকার
২. সমস্যা তো রয়ে গেছে-----

মাখা-মাখা বিকেলে প্রান্তিক গালিচায় বসে ডেকেছি----- আয় প্রিয়ভাজন,চণ্ডালিকা পর্বে শুরু করি-----                                                        তুমুল নাচ
অদূরে কারা যেন অপ্রসন্ন ঝুমুরে এঁকে দিচ্ছে----- কালাহারির আর্তনাদ...
এইবার নির্ঘাৎ ডুবে যাবো, স্বভাবী অন্ধকারে

মনামী ঘোষ

Image
মনামী ঘোষ 
পোড়া
তুমি বললে পুড়বে নদীর ধারে বদ্ধ চুল্লি তোমার না-পসন্দ আমি তোমায় শক্তি শোনাই, বলি এই দেখেছো! ভাবনা একধরন
তুমি বললে জল চাও না মোটে এক কুষি না, এক নদীও নয় তোমার শুধু জলের বাতাস দাবি উড়িয়ে দেওয়া সবটুকু সঞ্চয়
উত্তুরে বা দখিন হাওয়াই হোক তোমার সাথে বড্ড দহরম ভূগোল তোমার বাতাস-কেন্দ্রিক আগুনও চায় বাতাস হরদম

রীণা কংসবণিক

Image
রীণা কংসবণিক  আমরা কারা 
মানুষ, মানুষের মুখ  মানুষ, মানুষের চোখ  একে অপরকে গভীর পর্যবেক্ষণে! 
রাত্রির সুগন্ধ শরীরে, হাঁটছি 
জেব্রাক্রসিঙে অবনত মাথা অনন্তকাল! আমরা কারা? কোথায় যাচ্ছি?  গন্তব্যহীন আমরা হাঁটছি। আমরা কি সমুদ্রের দিকে?  পাহাড়!  জানি না...জানি না!

রেহানা বীথি

Image
রেহানা বীথি  ফাঁকি

দেখতে পাই, টলটলে জলের তলায় একফোঁটা জীবন 
হাত বাড়িয়ে ধরতে গেলেই অদৃশ্য।  বায়ুহীন আকাশে দুই-একটা ঘুড়ি  উড়ে বেড়ায় ফিঙে পাখির মতো  মেঘ ওড়ে জলের নিচে, কৈশোরসদৃশ বৃষ্টি হয়নি, বৃষ্টি ছিল না কোনোদিন  একথাই শুনে এসেছি এতকাল  তবু যখন চোখ বুঁজি, বৃষ্টি পড়ে  ঘাসফুল ভিজে যায় হাজারে হাজার।

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়

Image
শান্তনু চট্টোপাধ্যায় তৃতীয় কেউ

নিজের ভিতরটুকু খুঁড়ে-খুঁড়ে আলগা করে ফেলি
শিকড় চাড়িয়ে গেছে কুয়াশার দিকে
পোশাক বদল আর মুখোশ ফেরির সময়ে  অপরিণামের রঙ ঘরদোরে পিছলে পড়েছে
আমাদের বুকপকেটে  বেনামা  কষ্টের ঢেউ                             ঝুমঝুম জ্বলছে-নিভছে

সঙ্ঘমিত্রা সেন

Image
সঙ্ঘমিত্রা সেন ভালোবাসা 
দিয়েছ অনেক দামি উপহার  গায়ে-হলুদ ওই পলাশের ফুল  ভালোবাসা দিয়ে এঁকেছ আকাশ  এক অরণ্য...জেনে পথ ভুল 
কুহুতান আর ঝর্নার ঘ্রাণ 
পাহাড়ের বুকে বড়ো অভিমান  তিল-তিল কোরে..করে সঞ্চয়  একজোড়া চোখ...একটি হৃদয়

সোমা দত্ত

Image
সোমা দত্ত ধস নামে  
ধস নামে...ভেঙে যায় ঘর... দু-চারটে মৃতদেহ সন্দেহ করে প্রসারিত সমস্ত হাত কঙ্কাল হতে-হতে বায়বীয় একটি সবুজ ফার্ন দায়হীন দেহ মেলে দ্যাখে কেমন করে পরিবার এক দেহ থেকে অন্য দেহ খোলে। সমস্ত জমানো ঘুম দখল করেছে শীত নিখাদ শূন্যতা দিয়ে মাপে একের পর এক গাছেদের বেঘোরে মৃত্যু নতুন জন্ম, সপ্রতিভ প্রেম নিখুঁত ছুরির মতো কেটে যাওয়া উচ্চাশা হাই তোলে...ধস নামে সমতল ভেঙে যায়...স্রোত চলে...